সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় নিম্নমানের ঘি মোড়ক জাত করে রমরমা ব্যবসা!



 ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কারখানা নেই কিন্তু বাহারি রঙের লেভেল লাগিয়ে  মোড়ক জাত করে  নিম্নমানের ঘি-য়ে বাজার সয়লাব হচ্ছে। প্রতিমাসে ৩০ হাজার কেজি এই ধরনের  ভেজাল ও  নিম্নমানের ঘি বিক্রি হচ্ছে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের হাট বাজারে । 

পবিত্র রমজান মাসকে টার্গেট করে ভাঙ্গুড়ার হারোপাড়া বিশ্বাসপাড়ায় এই নিম্নমানের  ঘি তৈরি করতে সক্রিয় ঘি বাড়ী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সরেজমিন ওই মোড়কজাত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা এ অভিযোগ তোলেন। তবে ওই প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারি সাইফুল ইসলামের দাবি, তিনি কোন ভেজাল কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে ঘি উৎপাদনের কোন কারখানা দেখাতে পারেননি তিনি। গণমাধ্যম কর্মীরা  প্রতিষ্ঠানের ছবি নিতে গেলে শ্রমিকরা ছবি  নিতে বাধা প্রদান করেন। 

অনুসন্ধানে জানা যায়,  দীর্ঘদিন যাবত ডালডা আর পাম অয়েলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ঘি, ফ্লেভার আর রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খাঁটি মানের গাওয়া ঘি। আর ঘি বাড়ী নাম দিয়ে কৌটাজাত করা হচ্ছে। এরপর বিএসটিআই’র সিল বসিয়ে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। রমজান উপলক্ষে ঘি এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়  এসব ভেজাল ও নিম্নমানের  ঘিয়ে এখন সয়লাব বাজার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের  হারোপাড়া বিশ্বাসপাড়ায়  অবস্থিত ঘি বাড়ি নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।  স্থানীয় আলতাব হোসেন আলতু নামের এক  বাসিন্দার বাড়ির পাশাপাশি দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এই ঘি বাড়ির ঘি এর মোড়কজাত করেছেন দুইজন শ্রমিক। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিম্নমান ও ভেজাল ঘি ড্রামে  করে সংগ্রহ করে সেখানে নিয়ে এসে ছোট ছোট কন্টেইনারে ভরে আকর্ষণীয়  মোড়কজাত করে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্রয় করছেন। 

এ সময় শ্রমিকদের হাতে গ্লাভস কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক দেখা যায়নি।  লেভেলের গায়ে দেখা যায় ৫০০ গ্রাম ঘি ১০৫০ টাকা ও ১ কেজির ২১০০ টাকা।  তবে ঠিক কোথা থেকে ওই সকল ঘি নিয়ে এসে মোড়কজাত করছেন  তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি কেউ । এভাবে প্রতিমাসে প্রায় ৩০ হাজার কেজি ঘি মোড়কজাত করে বিক্রয় করে থাকেন ঘি বাড়ী নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি। 

গণমাধ্যম কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মুঠোফোন যোগাযোগ করে  প্রতিষ্ঠানটি স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার একটি কারখানা থেকে ওই ঘি গুলি ক্রয় করে   নিয়ে আসেন ভাঙ্গুড়াতে । নিজস্ব কারখানায় তৈরি ঘি বাড়ির ঘি তৈরি হচ্ছে এমন প্রচার করে ঘি গুলো বিক্রয় করছেন  এ  নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগে এক সময়ে তৈরি হতো এখন বাইরে থেকে কিনে এনে মোড়কজাত করা হচ্ছে, তবে মানে ভালো। 

একাধিক সূত্র বলছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে নিম্নমানের ও ভেজাল ঘি  কম দামে কিনে এনে ঘি বাড়ী প্রতিষ্ঠানে মোড়ক জাত করে বিক্রয় করে  থাকে।  যা  নিজস্ব  কারখানায় থেকে উৎপাদিত ঘি নামে প্রচার করে ঢাকাসহ  বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ হাটবাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণত প্রতিটি কৌটায় ৫০০ গ্রাম এবং ১০০০ গ্রাম ঘি থাকে। নিম্নমানের ওই সকল  ঘি তৈরিতে পাম ওয়েল,  ডালডা ও সামান্য পরিমাণ  খাঁটি ঘি দেওয়া হয়। এ মিশ্রণে সামান্য পরিমাণে রং ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাঙ্গুড়ার হারোপাড়া বিশ্বাসপাড়া এলাকার একাধিক ব্যক্তি  জানান, ভালো মানের প্রতি কেজি ঘি এর দাম দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। বেশি লাভ হওয়ায় ভালো মানের ঘি এর চেয়ে নিম্নমানের ঘি বিক্রিতেই বেশি উৎসাহী বেশির ভাগ ব্যবসায়ীদের। 

ঘটনার বিষয়ে, ঘি বাড়ি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিমাসে প্রায় ত্রিশ হাজার কেজি ঘি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে  বিক্রয় করা হচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানের ঘি মানে ভালো। তবে  প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র দূরে থাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের তাৎক্ষণিক তা দেখাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুন নাহার বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে  আলোচনা সাপেক্ষে ভোক্তা অধিকার অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে অচিরেই ওই কারখানা পরিদর্শন করে  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ