সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

পাবনায় বাউল শিল্পীকে মারধরে জড়িতদের শাস্তি দাবি

 


জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাবনার সাঁথিয়ায় বাউল শিল্পী আব্দুল জব্বারকে (৬০) মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ককরেছে বাউল শিল্পীরা। শনিবার ৮ মার্চ সাঁথিয়া থানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও বাউল শিল্পীরা। এ সময় তারা আরেক সংগীত শিল্পী পলাশ সরকারসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান।

মারধরে আহত শিল্পী আব্দুল জব্বার উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের দত্তপাড়া তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত ঈমান শেখের ছেলে। সাঁথিয়া থানার ওসি সাইদুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ফিরে যান।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিল্পী পলাশ সরকার নিজের ঘর নিজেই ভাঙচুর করেছেন। লুটপাটের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলা দায়ের করেছেন। তারা জানান, গত ২ মার্চ আব্দুল জব্বার ধোপাদহ বাজার থেকে ইফতারি কিনে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ পলাশ সরকার, আব্দুস সালাম ও জাহিদুল ইসলাম রড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করে হাত ভেঙে দেন। 

আব্দুল জব্বারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যান। আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

এ বিষয়ে সংগীত শিল্পী পলাশ সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জব্বার পক্ষের সঙ্গে জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ চলছে। তাঁর লোকজন আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং আমার বাবাকে আঘাত করে। আমাকে আঘাত করতে এলে আত্মরক্ষার্থে তাঁকে একটি আঘাত করি।’

সাঁথিয়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ও বন্ধন থিয়েটারের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেলিম এবং শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আবৃত্তি সংসদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারা শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেন। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। একজন শিল্পী হয়ে আরেকজনকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া ঠিক হয়নি। এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সাঁথিয়া থানার ওসি সাইদুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষ মামলা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ