অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেছে অপহরণকারীরা। পরে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
শনিবার (১৬ মে) ভোররাতে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করে ডিবি ও সদর থানা পুলিশ। এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তাদের অপহরণ করা হয়।
উদ্ধার হওয়ার তরুণ তরুণী হলেন, পাবনার চাটমোহর উপজেলার পাঁচুড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের তাহমিনা খাতুনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সনম (১৯) ও তার বান্ধবী ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা নীলা খাতুন (১৯)।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার তরিকুল ইসলাম সনম পাবনা শহরে আসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়। এরপর তিনি পাবনা থেকে বান্ধবী নীলাকে নিয়ে ভাঁড়ারা জামে মসজিদের উদ্দেশে রওনা দেন। উদ্দেশ্য ছিল বান্ধবী নীলা মানত করেছিল ঐতিহ্যবাহী ওই মসজিদে ৫০০ টাকা দান করবে।
পথিমধ্যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাদের অপহরণ করে। সনমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তরিকুল ইসলাম সনমের মা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশে অভিযানে নামে পাবনা জেলা গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশ। ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে পাবনা সদর থানার দুর্গম চর তারাপুর, চর ভাঁড়ারা এলাকায় অভিযান শুরু করে। অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে পাবনা সদর থানার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালায় তারা।
এক পর্যায়ে শনিবার ভোররাতে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা থেকে মোটরসাইকেলসহ অপহৃত তরিকুল ইসলাম সনম ও তার বান্ধবী নীলা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাদের ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহৃতরা পুলিশকে জানায়, একদল দুর্বৃত্ত পথরোধ করে তাদের জোর করে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।
ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, অপহৃতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর জড়িত অপহরণকারী চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ