সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

শিগগিরই চালু হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : রোসাটমের মহাপরিচালক

 


পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শিগগির পরীক্ষামূলক চালু হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন রোসাটম মহাপরিচালক। তিনি বলেন, প্রকল্পের ড্রাই রান চলছে, শিগগির টেস্ট রান শুরু হবে। নিরাপত্তা, গুণগতমান এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করতে রোসাটম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি এবং আন্তঃসরকার ঋণচুক্তি সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে অগ্রগতি এবং পারস্পরিক অভিন্ন স্বার্থের ওপর জোর দিয়ে বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে রোসাটমের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি সময়মতো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি রোসাটমের মহাপরিচালককে বলেন,আমরা আপনার সহযোগিতা কামনা করছি। এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোসাটমের মহাপরিচালক লিখাচেভ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে পবিত্র। দুই পক্ষ আন্তঃসরকারি ঋণ চুক্তি (আইজিসিএ) সংশোধনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন। যার আওতায় ঋণ ব্যবহারের সময়সীমা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ অচিরেই আইজিসিএর দ্বিতীয় প্রটোকল সই করতে সম্মত হন। এছাড়া প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে জনবল প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা প্রোটোকল ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান স্থানান্তরের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। রাশিয়ার পক্ষে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন, রাশিয়ার ফেডারেল এনভায়রনমেন্টাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সুপারভিশন সার্ভিসের ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেক্সেই ফেরোপোন্তভ, রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক আন্দ্রে পেত্রোভ এবং রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এএসই-জেএসির সহ-সভাপতি আলেক্সেই দেরি। রোসাটমের মহাপরিচালক লিখাচেভ এক দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে পৌছান গতকাল। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। রাশিয়ার আর্ধিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ করছে রোসাটম। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করা হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। গত বছরের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩৩তম সদস্য হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এখন রূপপুরে মজুত আছে। রূপপুরে বর্তমান কেন্দ্রের পাশেই একই সক্ষমতার আরও দুই ইউনিটের পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে। এটি হলে ওই দুই ইউনিটের নির্মাণ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে।


অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় আনুমানিক ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার রাশিয়ার ঋণ, আর বাকি ১০ শতাংশ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে প্রায় ৭.৭০ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। তবে কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তীকালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পের গতি শ্লথ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

ফলে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়াকে ঋণ বিতরণের সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার ফলে বাংলাদেশ চুক্তির আওতায় অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি।

রূপপুর প্রকল্পের ঋণ ছাড়ের সময়সীমা ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়াতে রাজি হয়েছে রাশিয়া



চুক্তি সংশোধনের পর বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে অবশিষ্ট ৩.৬৮ বিলিয়ন ডলার পাবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা ও রোসাটমের মহাপরিচালক প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস লিখাচেভকে জানান, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী। তিনি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেন।

রোসাটমের মহাপরিচালক সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চলমান সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনার সময় অধ্যাপক ইউনূস বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রোসাটমের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করার ওপর জোর দেন।

'আমরা আপনার সহায়তার জন্য অপেক্ষায় আছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,' লিখাচেভকে উদ্দেশ করে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে কাজ

লিখাচেভ জানান, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

'বাংলাদেশের জনগণের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,' বলেন তিনি।

তিনি ইউনূসকে জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ড্রাই রান চলছে এবং শিগগিরই পরীক্ষামূলক পরিচালনা শুরু হবে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ড্রাই রান এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে প্রকৃত সরঞ্জাম বা সম্পদ ব্যবহার না করেই পরিচালনার মহড়া দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষামূলক পরিচালনা শুরু হবে, যেখানে প্রকৃত সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে।

লিখাচেভ আরও আশ্বস্ত করেন, রোসাটম সুরক্ষা, গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সফল সমাপ্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া, সিনিয়র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন এবং ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন, ফেডারেল এনভায়রনমেন্টাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সুপারভিশন সার্ভিসের ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেক্সি ফেরোপন্টভ, রোসাটমের ফার্স্ট ডেপুটি-ডিরেক্টর আন্দ্রে পেট্রোভ এবং এএসই জেএসসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রূপপুর এনপিপির প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি ডেরি।

রাশিয়ার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

ইআরডি সচিব শাহরিয়ার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ঋণ বিতরণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবে রাশিয়া ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছি।'

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ান প্রতিনিধিদল ইআরডির সঙ্গে একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করে। এতে ইআরডি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঋণ বিতরণ ও পরিশোধের সময়কাল বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত সময় ১৫ মার্চ ২০২৭। তবে, পুরো অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করা সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশ ১৫ মার্চ ২০২৯ থেকে পরিশোধ শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রোটোকল স্বাক্ষরের সময় বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

বর্তমানে রাশিয়ার কাছে বাংলাদেশের দেনার পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণের জন্য নেওয়া হয়েছিল। বাকি অংশ ঋণের সুদ ও বকেয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত।

৯৪ শতাংশ সম্পন্ন ইউনিট-১, ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন ইউনিট-২

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন টিবিএসকে জানান, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কাজ ৯৪ শতাংশ এবং ইউনিট-২-এর ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ঋণ বিতরণের সময়সীমা বাড়ানোয় বাকি কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্যানুসারে, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত কাজের ৬৭.৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতিও একই হারে এগোচ্ছে।

প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে এবং ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে পুতিন জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হবে।

রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের ফলে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পারমাণবিক স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণে বিলম্বের কারণে ২০২৬ সালে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৩ সালে গ্রিড সংযোগ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে বিলম্বের কারণে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও তা পূরণ হয়নি।

গ্রিড লাইন স্থাপনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (বাংলাদেশ) জানিয়েছে, আগামী মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও পুরো ইনস্টলেশন শেষ নাও হতে পারে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি, রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির টিবিএসকে বলেন, ঋণ বিতরণের সময়সীমা বাড়ানো রাশিয়ার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা তাদের দিক থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার করার ইঙ্গিত।

তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে 'সুচিন্তিত প্রতিক্রিয়া' বলে অভিহিত করেছেন। কবির আরও বলেন, রূপপুর প্রকল্প ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বড় কোনো প্রকল্প বা বাণিজ্য নেই। এছাড়া, রাশিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গ্রিড লাইন সংযোগের জটিলতাসহ নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে গেছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হবে।

২০২৫ সালের মধ্যে কেন্দ্রের একটি ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধান যন্ত্রপাতি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন পরীক্ষার কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টার্ট-আপ ও সমন্বয়ের কাজ চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ