সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ছুটি ছাড়াই হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি আরবে ভাঙ্গুড়ার এক প্রধান শিক্ষক

 



ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি :  ছুটি ছাড়াই হজ্ব কাফেলা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সৌদি আরব গমনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভাঙ্গুড়ায় উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রুপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করেন। এর আগেও হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব গমন করেন। এবছর সাইদুর রহমান ১৮ জন হাজীর কাফেলা নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল সৌদি আরব গিয়েছেন। জানা যায়, ওই এজেন্সি থেকে হাজী প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কমিশন পান তিনি। অথচ এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করলে এমপিও বাতিল সহ শাস্তির বিধান রয়েছে। এরপরেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাইদুর রহমানের ফোনে কল করলে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে সানি রিসিভ করে বলেন, বাবা নাই, হজ্বে গেছেন। তিনি বলেন, বাবার সাথে এজেন্সির ঝামেলা হয়েছে। তাই প্রথম পর্যায়ে ১৮ জন হাজী নিয়ে হজ্বে গেছেন। পরে আরো কয়েকজন যাবে। তবে এবছর ছুটি নিয়ে অফিশিয়ালি ঝামেলা হয়েছে। আগামীতে হয়তো যাবে না। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাইদুর রহমানের ইমো নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। এমনকি তাকে বার্তা পাঠালেও রিপ্লাই দেননি। 

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক স্যার এর আগেও হজ্বে গেছেন। কোন রেজুলেশন না করে আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।  কবে ফিরবেন জানিনা। 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান হজ্বে গিয়েছেন কিনা আমি জানিনা। হজ্বে যাওয়ার আগে অবশ্যই ওই প্রধান শিক্ষকের সভাপতি ইউএনও স্যার ও ম্যানেজিং কমিটির কাছ থেকে ছুটি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু নেয়নি। ছুটি দেয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নয়। এছাড়া চাইলেই যে তিনি ছুটি পাবেন, সেটাও নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে অবহিত করা হবে। 

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, এর আগে তিনি হজ্বে গিয়েছিলেন কিনা আমার জানা নাই। হজ্বে যাওয়ার জন্য ওই প্রধান শিক্ষককে ছুটি দেওয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের। তাই আমি ছুটি দেইনি। তবে হজ্বে যাওয়ার আগের দিন একটি ছুটির আবেদন তিনি অফিসে রেখে গেছেন, কিন্তু পাশ করা হয়নি।                                                             

সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।                                                                                                                                                                              

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হজ্বে যেতে শিক্ষকদের ছুটির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন লাগে না। এটা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন করেন। তবে ওই শিক্ষক হজ্ব এজেন্সিতে চাকরি করেন কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবো। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য কোন চাকরি করার সুযোগ নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ