পাবনায় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল মজুত রাখার ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ওই ঘটনার খবর সংবলিত একটি পেপার কাটিং (সংবাদপত্রের অংশ) প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘নাউজুবিল্লাহ’।
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুরু থেকেই দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আসছে। যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের প্রাপ্যতায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন দেশে মাত্র ৭ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত ছিল। এখন মজুতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। মে মাস পর্যন্ত চাহিদা নিশ্চিত আছে, এখন জুন-জুলাইয়ের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে।’
পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ লাইন সবসময় ব্যবস্থাপনার সঠিক চিত্র দেয় না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দেড় বছর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডাব খাইয়েছিলেন, সংসদে দেখে আমাকে চিনতে পেরেছেন। কিন্তু আমি খুশি হতাম, যদি তিনি এই সংকট মোকাবিলায় কোনো কার্যকর পরামর্শ দিতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সবার পরামর্শ নিচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা যদি পরামর্শ দেয়ার জন্য মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান, তবে আমরা সেখানে যাব।’
জেলা পর্যায়ে বর্তমানে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার চিত্র অনেক উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী
মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, সব সেবা সচল রাখতেই বাস্তবতার নিরিখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে জামায়াত সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজীর বাড়িতে প্লাস্টিকের ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতকৃত অবস্থায় পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজী পাবনা জেলা জামায়াতের রোকন ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
0 মন্তব্যসমূহ