সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

আনসারদের সহায়তায় পাবনা মানসিক হাসপাতাল এখন যেন বিনোদন কেন্দ্র!


টিকটকারদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ পাবনা মানসিক হাসপাতালের রোগীরা পাবনা মানসিক হাসপাতাল এখন যেন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতাল এখন যেন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রোগী দেখতে অবাধে ঢুকছেন সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রোগীদের উত্ত্যক্ত করে বানাচ্ছেন অপমানজনক ভিডিও, যা পরে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এতে রোগীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের ঘুষ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। হাসপাতালে কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বিকৃত অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে প্রকাশ্যেই অভ্যন্তরে ভিডিও বানাচ্ছেন।

 এর আগে আনসার সদস্যদের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ধারণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা।

 স্থানীয়রা জানান, আনসার সদস্যদের হাত দিয়ে তোলা এসব ঘুষের টাকা চলে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেটের পকেটে। মানসিক রোগীদের জন্য গড়ে তোলা দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালটিকে যারা বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগীরাও।

হাসপাতালটির মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম শফিউল আজম বলেন, ‘এমন কর্মকাণ্ডে মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ টিকটকাররা এসে রোগীদের অতীতের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দেয়। এতে মানসিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

 হাসপাতালটির পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে বিষয়টি খুবই খারাপ। এ নিয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। ইতোমধ্যে দুজন আনসার সদস্যকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

 ১৯৫৭ সালে পাবনা শহরের হেমায়েতপুরের শীতলাই জমিদারবাড়িতে ১১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনা মানসিক হাসপাতাল। শুরুতে ৬০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও পরে ১৯৯৬ সালে এর শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০-তে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ