সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

এক দিনও সেবা দেয়নি বেড়ার চরবাসীর নৌ অ্যাম্বুলেন্স!


পাবনার বেড়া উপজেলার প্রায় এক লাখ চরবাসীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স এক দিনের জন্যও পানিতে ভাসেনি। পড়ে থেকেই নষ্ট হল অ্যাম্বুলেন্সটি। এখন সেটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে। চুরি হয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক যন্তপাতি।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে সরকার একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে সেটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। চালু তো দূরের কথা, এক দিনের জন্যও সেটিকে চরে গিয়ে রোগী আনতে দেখেননি স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন নদীর পানিতে ডুবে থেকে অকেজো হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মানুষের জীবন রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর চরাঞ্চল দিয়ে ঘেরা। দুই নদীর ২৫টি চরে প্রায় এক লাখ মানুষের বাস। এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা মূলত নৌপথনির্ভর। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। 

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নৌপথে রোগী পরিবহনের জন্য নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল চরাঞ্চল থেকে দ্রুত রোগী এনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা শহরে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। যমুনার দুর্গম চর চরসাফুল্যা গ্রামের আবুল কাশম জানান, মাস দেড়েক আগে তার প্রতিবেশি প্রসূতির প্রসব বেদনা ওঠে। সকাল থেকে দাই ও হাতুড়ে চিকিৎসকের চেষ্টাতেও প্রসব সম্ভব হয়নি। বিকেল হয়ে গেছে এমণ পরিস্থিতিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন। 

কিন্তু বিকেলে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা না পেয়ে বিপাকে পড়েন সবাই। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার পর কষ্টে একটি ছোট নৌকা জোগাড় করে কয়েক ধাপে তাঁকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন মা ও সন্তান। তবে আক্ষেপ, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে কয়েক ঘণ্টা আগেই হাসপাতালে পৌঁছানো যেত, কমে যেত ঝুঁকি।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ওয়ান বেড ক্লিনিক বোটটি (নৌ অ্যাম্বুলেন্স) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে ততকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেন। কিন্তু হাসপাতালে সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও জনবল না থাকায় এটি প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নদীতে রাখা হয়। তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় অযত্নে পড়ে থাকতে থাকতে একসময় দুর্বৃত্তরা সেটি ঘাটের কাছেই নদীতে ডুবিয়ে দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস.এম মিলন মাহামুদ জানান, নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেটির জন্য কোন চালক, জ্বালানীর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল না। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেই লক্ষ্যে নতুন করে নৌ অ্যাম্বুলেন্স পাবার চেষ্টা চলছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ