সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে পাবনায় জনজীবন দুর্বিষহ


রনি ইমরানঃ যখন তাপদহ বয়ে চলেছে পাবনায় তখন অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শহরে দিনের মত দফায় দফায় রাতের লোডশেডিং হচ্ছ। মধ্যরাতের লোডশেডিং মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হাসপাতাল, বাসাবাড়ি, অফিস, দোকানপাট, শপিংমলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। 

গতকাল ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার লোডশেডিং চলাকালে পৌর শহরের কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নারী পুরুষ শিশু নির্বিশেষে বাড়ির ছাদে বা রাস্তার গলিতে দিশেহারা পায়চারি করছে। তারা জানায়, দিনের বেলায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ও রাতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।  কয়েকদিন যাবৎ রাতের ঘুমও উবে গেছে বলে তাদের। শহরের ২ নং ওয়ার্ডের মুদি দোকান ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানায়, গতকাল সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত সময়ে  ৫ ঘন্টার বেশি লোডশেডিংয়ের শিকার হয়েছি। তীব্র গরমে অসুস্থ বোধ করায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেছি। 

১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহমেদুল হক শিহাব জানায় রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের সদস্য ও শিশুরা কষ্ট পাচ্ছে। গতরাত ও আগের রাতে ২ ঘন্টা ঘুমাতে পেরেছি আমরা মাত্র। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং থেকে বাঁচতে শহরের ইলেকট্রনিক্স দোকানে চার্জার ফ্যান বেচাবিক্রি বেড়ে গেছে। চার্জার ফ্যান  কিনতে উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে এসব দোকানগুলোতে। 

পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান মিন্টু  জানায়, লোডশেডিংয়ের কারণে যে যার সামর্থ্য মত চার্জার ফ্যান কিনছে। তবে মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংখ্যা বেশি। শহরের নিম্নবিত্তরা চার্জার ফ্যান কিনতে পারছে না।এই সঙ্কট সময় ইলেকট্রনিক্স পণ্যর দাম সহনীয় রাখতে পাবনার ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের প্রতি  মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

শহরের বিভিন্ন অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম হওয়াতে উৎপাদন যেমন কমে গেছে, তেমনি ব্যাপক কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। শহরের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. আলী জাকির  জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। 

লোডশেডিং চলাকালে পাবনা শহরের গোপালপুরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অর্ধশত মানুষকে সেবা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা বলেন, পার্সেল জমা দিতে এসে ১ ঘন্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি। কতৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুৎ না আসলে নাকি পার্সেল জমা নেবে না। কথা হয় কুরিয়ারের ম্যানেজার মো.বেলাল হোসেনের সাথে, তিনি  বলেন, লোডশেডিংয়ে চাহিদা মত জ্বালানি তেল না পাওয়াতে ঠিকমত জেনারেটরও চালাতে পারছি না।  

পাবনা সদরের গয়েশপুরের নতুনপাড়া ক্লাব এলাকায় লোডশেডিংয়ে  তাঁতকল গুলো বন্ধ দেখা যায়।  ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ মোতিয়ার হোসেন  বলেন,  দিনে ৬ থেকে ৭  ঘন্টা  বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন  বন্ধ থাকছে। আবার, রং সুতার দাম বেড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ২ হাজার তাঁতি পরিবারের জীবিকায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

পাবনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় , ব্যাপক লোডশেডিং রোগীদের কষ্টের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের কষ্ট আরো বিভীষিকাময় করে তুলছে। রোগীর স্বজনরা বলেন, হাসপাতালে ঘন ঘন লোডশেডিং রোগীদের নিদারুণ কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাবনা নেসকোর এক কর্মকর্তা  জানান, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম তাই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। তিনি আরো জানান, পাবনা  শহরে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৪১ থেকে ৪৭ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৭ থেকে ২২ মেগাওয়াট। তাপদহ অব্যাহত থাকলে আগামীতে শহরে  লোডশেডিং আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ