মনসুর আলম খোকন, সাঁথিয়া, পাবনা: পাবনার সাঁথিয়ার আফতারনগর বাজার জামে মসজিদে আজ স্থানীয় জামায়াত এমপির জুমার নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত উভয়পক্ষের কর্মীসমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা ১ আসনের (সাঁথিয়া) সাংসদ ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আফতাবনগর (ছেঁচানিয়া) বাজার জামে মসজিদে গিয়ে মুসুল্লিদের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের পর মসজিদে কথাবার্তা বলেন এবং ছানি খোৎবা দেন। এমপির খোৎবারত অবস্থায় মসজিদে বিএনপির নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে হট্রগোল শুরু হয়। এ সময় মসজিদের মধ্যে জামায়াত এবং বিএনপি'র মুসুল্লীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। জামায়াতের আহতরা হলেন যুব জামায়াত নেতা শিখন মোল্লা, সাদ্দাম ফকির, মেহেদী হাসান, শিমুল ফকির, রবিন হাসান, মফিজ উদ্দিন, কুতুবউদ্দিন, এনসিপি নেতা আবু দাউদ ফকির এবং বিএনপির মধ্যে আহতরা হলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক জীবন আহমেদ, ৬নং ওয়ার্ড পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাদ প্রমূখ।
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের (ভারপ্রাপ্ত) আমির অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় পৌর জামায়াতের সাথে সমন্বয় করে মসজিদ কমিটির অনুমতি নিয়ে আজ আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়ানোর কথা ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান এমপির। মসজিদে উপস্থিত হয়ে তিনি উপস্থিত মুসুল্লিদের সাথে কুশলাদি বিনিময়ের পর বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি যখন খুতবা দিতে ছিলেন তখন বিএনপির কিছু লোকজন মসজিদে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম জানান, স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভিতরে মুসুল্লিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জানান, এর আগে একবার আফতাবনগর বাজার মসজিদে ইমামতি করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হই। আজ আমাকে ওই গ্রামের লোকজন ইমামতি করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হট্রগোল,বাধা সৃষ্টি করে।
এ প্রসঙ্গে প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ভাই মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, "মসজিদে ইমামতি এবং জুমার খুৎবা প্রদান প্রসঙ্গে৷ মসজিদের এক্জিস্টিং ইমাম এবং সর্বোপরি সেই এলাকার জনগণ যদি না চায় তবে সে এমপি, মন্ত্রী কিংবা যত বড় মাপের কেউ হোক না কেন তার জোরপূর্বক সেখানে নামাযের ইমামতি কিংবা জুমার খুৎবা প্রদানের কোন অধিকার নেই৷ লাউড এন্ড ক্লিয়ার..."
সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, পৌরসভার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়াতে গেলে নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভিতরে মুসুল্লিদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সাঁথিয়া থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
.jpg)
