পাবনার ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির মামলার প্রধান আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুরের কড়ইতলা এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন নুরুন্নবী আলম। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি ও অন্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম।
ডিবি পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে ঝুটবোঝাই ছয়টি ট্রাক নিয়ে বের হন চালকরা। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পাকশীর দিয়াড় বাঘইল তেলপাম্পসংলগ্ন একটি ওজন স্কেলে ট্রাকগুলোর ওজন মাপার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র যুবক সেখানে আসেন। তারা ট্রাকচালক, হেলপার ও স্কেলের কর্মচারীদের মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ছিনিয়ে নেন।
এরপর ডাকাত দল ট্রাক দুটি প্রথমে পাকশীর নতুন রূপপুর স্কুলের পাশে নিয়ে যায়। পরে চালকদের জিম্মি রেখে ট্রাক দুটি পাবনা শহরের বিসিক এলাকায় নিয়ে পুনরায় ওজন করায়। সেখান থেকে বাইপাস সড়কের গাছপাড়া এলাকায় নেওয়া হলে খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশ ঝুটসহ ট্রাক দুটি উদ্ধার করে এবং জিম্মি চালকদের মুক্ত করে। তবে সেসময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব বাদী হয়ে পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলম পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রূপপুর এলাকায় মামলার আসামিরা অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল অভিযানে যায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান আসামি নুরুন্নবী আলমসহ অন্যরা পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিজামকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
.jpg)
