মনসুর আলম খোকন, সাঁথিয়া (পাবনা)প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতা চালানোর অভিযোগে সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০/৪০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাতে সাঁথিয়া থানার এসআই (নিঃ) মো. মাহবুবুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ সাঁথিয়া পৌর এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল ডিউটি করাকালীন গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, উপজেলার মিয়াপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত হয়ে গোপন বৈঠক করছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চমহলে জানিয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশক্রমে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থল থেকে খন্দকার শামীমকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০টি সরকারবিরোধী পোস্টার, ১৫টি বাঁশের লাঠি এবং আসামিদের ব্যবহৃত ৭ জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ধৃত আসামির ব্যবহৃত একটি হুয়াওয়ে (HUAWEI nova 3i) মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান ও উল্লেখযোগ্য অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ হলেন যুবলীগ নেতা খন্দকার শামীম (৪০), সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম বাচ্চু, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা খোকন, আশরাফুল আলম, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মো. মনসুর আলম পিন্টুসহ মোট ৩৩ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ৩০/৪০ জন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি খন্দকার শামীম পুলিশকে জানিয়েছে যে, পলাতক আসামিদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নেতৃত্বে সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল সংগঠনকে একত্রিত করে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা চালানো হচ্ছিল। অনলাইনে ও বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানার এসআই (নিঃ) মো. মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৬(২) এর (ই)/(চ)/৮/৯/১০/১১/১২ ধারায় সাঁথিয়া থানায় এই এজাহার দায়ের করেন।
.jpg)
.jpg)