পাবনার সুজানগর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে পুলিশ।
দুই মামলায় শতাধিক আসামির নাম দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের-ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
পুলিশ জানায়, বুধবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় মানুষের সমাগম হয়েছিল।
পুলিশ দাবি করছে, ওই সুযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা সভাপতি আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মিছিল বা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। এরপর শতাধিক নেতাকর্মী ও কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়।
এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সুজানগর থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সুজানগর থানায় পুলিশ দুটি মামলা করে। দুটি মামলাতেই আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগে করা একটি মামলায় ৫৫ জনের নাম দেওয়া হয়েছে।
এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম সোহাগসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
.jpg)
