ভাঙ্গুড়ায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃষকরা জিম্মি !

0

 



ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে| স্থানীয় বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছে এসব ব্যবসায়ীরা| সরেজমিনে এর সত্যতাও মেলে|


সংশ্লিষ্ট অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলা খাদ্য গুদাম সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে| এরই মধ্যে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে| শর্ত মোতাবেক কৃষি অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রত্যেক কৃষক তিন মন থেকে তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রয় করতে পারবে| ভাঙ্গুড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৭ শত কৃষকের কৃষি কার্ড এবং তাদের নামে ব্যাংকে কৃষক একাউন্ট রয়েছে| প্রত্যেক কৃষক খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করার পরে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি একাউন্টে টাকা পরিশোধ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে|


এদিকে একাধিক কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের ধান বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না খাদ্য গুদাম কর্মকর্তারা| কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ধান ফেরত দিয়ে দেয়| অথচ স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা হাট বাজার থেকে ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে ১৪৪০ টাকা মণ দরে খাদ্য গুদামে বিক্রি করছে| এতে প্রতি মেট্রিক টন ধানে প্রায় তিন হাজার টাকা করে লাভ করছে ব্যবসায়ীরা| আর এই লাভের অংশ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টদের পকেটে যাচ্ছে|


সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য গুদামের দুইটি গুদামের সামনে দশ মেট্রিক টন ধান বোঝাই নসিমন গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে| একটি গাড়ি থেকে ধান নামিয়ে গুদামের ভেতরে নেয়া হচ্ছে| অথচ এখানেই ধানের মালিক কিংবা কোন কৃষক নেই| গাড়ির চালকরা জানান, এই ধান উপজেলার ধান ব্যবসায়ী মুক্তি সরকার ও শরিফুল ইসলামের| উপজেলার ˆকইডাঙ্গা গ্রাম থেকে এসব ধান আনা হয়েছে|


এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, এগুলো আমার আত্মীয় স্বজনের ধান| তারা সবাই কৃষক| কৃষকদের একাউন্টেই টাকা যাবে| আমি শুধু সেগুলো পৌঁছে দিয়েছি|


অপরদিকে মুক্তি সরকার একজন চিহ্নিত খাদ্যগুদামে চাঊল  সরবরাহকারী মিলার ও চাউল ব্যবসায়ী| একটি গাড়িতে প্রায় আড়াই শত বস্তা ধান দিতে খাদ্য গুদামে হাজির|  তিনি এক ছটাক সম্পত্তিও আবাদ করেন না| এখন প্রশ্ন হলো তিনি এতো ধান কোখায় পেলেন ? অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি হাট থেকে কম দামে ধান ক্রয় করে খাদ্য গুদামে বিক্রয় করতে এনছেন| প্রতি বছর তিনি খাদ্যগুদামে চাঊল সরবরাহ করে থাকেন| ঘটনার বিষয়ে জানতে মিলার মুক্তি সরকারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি| 


এ বিষয়ে খাদ্যগুদামের উপপরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা হয়| টাকাও তাদের একাউন্টে যায়| আজকে নিয়ে আসা ধানের মালিক কৃষকরা না হয়ে থাকলে এ ধান নামানো হবে না| এরকম ধান আসলে আমরা ফেরত পাঠাই| এখানে কোন অনিয়ম করা হয় না| কাগজপত্রে সবকিছুই ঠিকঠাক আছে| একজন চাউল মিলার কিভাবে ধান দিচ্ছেন তিনি তো কৃষক নন - এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মুক্তি সরকারের কোনো ধানের গাড়ি নেই| মোবাইল ফোনে মুক্তি সরকারের ধানের গাড়ি খাদ্য গুমাদের দরজার সামনে ছবি দেখালে তিনি তার সদোত্তর দিতে পারেন নি|


এা ঘটনার বিষয়ে উপেজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, তিনি কৃষকদের কৃষি কার্ড দেখে দেখে তাদের বিলে স্বাক্ষর করেন| তিনি কোনো অনিয়ন করেন নি| তবে খাদ্য গুদামের মধ্যে কখন কি ঘটছে তাৎক্ষণাৎ না জেনে কিছু বলতে পারবেন না|

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top