ঈশ্বরদীতে পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামি অস্ত্রসহ গ্রেফতার

0



২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর সকালে পাকশীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন ইপিজেড সড়কের পাশের একটি ক্ষেত থেকে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুজাউল ইসলামের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাজিব হোসেন সেতুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।


বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী বাবুপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতার সেতু ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল পাকশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি বলে জানা গেছে।


পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বিএনপির (হাবিব গ্রুপ) স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সেতুর বিরুদ্ধে পাকশি ইউনিয়নে অবস্থিত সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঈশ্বরদী ইপিজেডে অস্ত্রবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভূমি ও সরকারি বাসাবাড়ি দখল ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।


পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এ বি এম মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেতুর বাড়ি ঘেরাও করা হয়। এ সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


তিনি আরো জানান, সেতু ২০১৫ সালে সঙ্ঘটিত এএসআই সুজাউল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।


এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেতুকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর সকালে পাকশীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন ইপিজেড সড়কের পাশের একটি ক্ষেত থেকে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুজাউল ইসলামের হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এর আগে চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি হিসেবে সেতুকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top