দীর্ঘ এক যুগের অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করেছে। তবে এই সাফল্যের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি গুজব—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে নাকি লালন শাহ সেতু স্থানান্তর করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) স্পষ্ট করেছে, লালন শাহ সেতু অপসারণ বা স্থানান্তরের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এলাকার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের অদূরে অবস্থিত এই সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
সওজ সূত্র জানায়, লালন শাহ সেতু যেখানে রয়েছে সেখানেই থাকবে। তবে রূপপুরকে ঘিরে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর-ঈশ্বরদী-নাটোর-বনপাড়া হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের একটি মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যয় ও অর্থায়নের বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, লালন শাহ সেতু সরানোর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। বরং রূপপুর কেন্দ্রকে ঘিরে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

0 মন্তব্যসমূহ