ঢাকায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, পাবনায় গ্রেফতার- ১

0


রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় মাদরাসার বাথরুম থেকে শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. শিহাব (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) বিকেল ৬টার দিকে পাবনার বেড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শিহাব বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। সে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী। মৃত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামেরআবুল কালাম আজাদের ছেলে।

বেড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ আলি বলেন, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে বেড়া উপজেলায় অভিযানে আসে। অভিযুক্ত শিহাব মাদরাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে ছিল। পরে তার বাবাকে দিয়ে কথা বলিয়ে শিহাবকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। বিকেল ৬টার দিকে বেড়া সিএনবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে পৌঁছার পর তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানায় নিয়ে যায়। অভিযানে বেড়া থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই একরামুল হক বলেন, এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শিহাবকে অভিযুক্ত করে বুধবার থানায় একটি মামলা করেছেন। তার প্রেক্ষিতে শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসআই একরামুল আরও জানান, শিহাবের বিরুদ্ধে ওই মাদরাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। আর শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকেও সে বলাৎকার করেছে এবং সে কারণে আব্দুল্লাহ অপমানে ক্ষোভে গলায় ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর শিহাবকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ও পায়ুপথে জখমের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে বলাৎকার করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।

মাদরাসাটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদরাসাটির শুরু থেকে সর্বপ্রথম শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ। মাদরাসাতে থেকেই হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত সে। মঙ্গলবার মাগরিবের পর সে বাথরুমে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় তাদের সন্দেহ হলে শিক্ষকরা মিলে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছে সে। সঙ্গে সঙ্গে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ মাধ্যমে থানায় খবর দেন। পরবর্তীতে থানা থেকে পুলিশ এসে লাশ নামায়।

আব্দুল্লাহর পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বলাৎকার করা হয়ে থাকতে পারে, পুলিশের এমন ধারণার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, মাদরাসায় তিনিসহ পাঁচজন শিক্ষক, দুইজন স্টাফ এবং সর্বমোট ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে কেউই তেমন কিছুই বলতে পারেনি। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিহাব (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কিছু কথা জানিয়েছে। যেগুলো সন্দেহজনক। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলেই সে ছুটি নিয়ে মাদরাসা থেকে বেরিয়ে গেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !
To Top