যথাযোগ্য মর্যাদা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে এবং শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসের প্রথম প্রহরেই পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ৬টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত ‘দুর্জয় পাবনা’ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ। এরপর একে একে পাবনা পুলিশ লাইনস ও বালিয়াহালট স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মশিউর রহমান মন্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সকাল ৮টায় পাবনা শহীদ আমিনুদ্দিন স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় মনোরম কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা ও পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।
স্টেডিয়ামের কুচকাওয়াজে জেলা পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত নান্দনিক ডিসপ্লে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল দেশাত্মবোধক আবহ, যা নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন করে জাগ্রত করে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন,
"বীর শহীদদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি স্মার্ট ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।"
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পাবনাবাসীর জন্য দিনটি ছিল দেশপ্রেমের এক অনন্য মিলনমেলা।

0 মন্তব্যসমূহ