ভাঙ্গুড়া প্রতনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের শরৎনগর পশুর হাটে খাজনা আদায়ের আড়ালে সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার নিকট থেকে নিয়ম বর্হিভুতভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাট কমিটির লোকজন লাখ লাখ টাকা। এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙ্গুড়া বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যনারে একাধিক স্বাক্ষরিত ব্যক্তি বর্গ। পাশাপাশি অনুলিপি দিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সহকারি কমিশার (ভুমি) ও পৌর প্রশাসক, অফিসার ইনচার্জ ভাঙ্গুড়া, পাবনাকে।
ইউএনও বরাবরে দায়ের করা স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, পাবনার জেলাধীন ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার স্থায়ী একটি ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট রয়েছে। এই পশুর হাট ইজারাদার সিডিউল মোতাবেক ক্রেতার নিকট থেকে বড় গরু / মহিষ প্রতিটি ৬৫০ টাকা, ছোট গরু/ মহিষ ৪৪০ টাকা, বড় ছাগল ৩০০ টাকা, ছোট ছাগল ২০০ টাকা, ভেড়া ১৫০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু হাট কমিটি এই সরকার স্বীকৃত নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে উল্লেখিত হারে টাকা ক্রেতার নিকট থেকে নেওয়ার পরও বিক্রেতার নিকট থেকেও অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। উপরন্ত ছোট গরু ও বড় গরু উভয় ক্ষেত্রেই ৬৫০ টাকা হারে আদায় করে যাচ্ছেন যা রীতিমত অগ্রহণ যোগ্য এবং চাঁদা বাজীও বটে। অপরদিকে খাজনা আদায় করলে কৌশলে ওই রশিদে টাকার পরিমান উল্লেখ করছেন না। যা জনসাধারণের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি রীতিমতো প্রতারণাও বটে। এভাবে প্রতি বছর হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এই অবস্থা যেনো দেখার কেই নাই। এমন কৌশলী জালিয়াতী করে নিয়মবর্হিভুতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছে।
এই অবস্থার প্রতিকার পেতে অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সহকারি কমিশার (ভুমি) ও পৌর প্রশাসক, অফিসার ইনচার্জ ভাঙ্গুড়া, পাবনাকেও।
বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে শরৎনগর পশুর হাটে অতিরিক্ত অর্থ তথা চাঁদাবাজী বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনসাধারণের উপর থেকে আর্থিক চাপ সরকারি নিয়ম নীতি অনুয়ায়ী হাট পরিচালনা করারও জোর দাবী জানানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনা জেলার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এবং অনেক বড় পশু হাট গুলোর মধ্যে শরৎনগর পশুর হাট অন্যতম। প্রতি শনিবার করে এই হাটে দিন ব্যাপি শত শত গরু-মহিষ-ছাগল- ভেড়া ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। হাট কমিটির সাথে জড়িত একটি চক্র রয়েছে যারা হাসিল বা খাজনা আদায়ের নামে সরকার নির্ধারিত অর্থের বাহিরেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও আইনগত সহায়তা না পাওয়ায় তারা চক্রটি ধরা ছোয়ার বাহিরেই থেকে গেছে। ফলে কৌশলী চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাপস কুমার পাল জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ