সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় প্রেমের বিয়ের ২৯ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ


বিশেষ প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন প্রেম, গোপনে দুজনে দেখা-শোনা। দুই জনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে বিবাহ। মাত্র ২৯ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়িতে মিললো ফাতেমা খাতুন নামের একগৃহ বধূর ঝুলন্ত মরদেহ। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। 

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের উত্তর মেন্দা গ্রামে সোমরার (২ মার্চ) বিকালের দিকে তার শয়ন কক্ষে  এ ঘটনা । প্রেমের পর বিয়ে হঠাৎ করেই গৃহবধূর আত্মহত্যাকে ঘিরে রয়েছে রহস্য । তিনি ঐ এলাকার ইমন হোসেনের স্ত্রী। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের উত্তর কলকতি গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা ফাতেমা খাতুন ভাঙ্গুড়া একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুবাদে ইমনের সাথে পরিচয় ঘটে। এর পরে পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে ইমন ও ফাতেমার মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় দুজনেই দুজনের সাথে বিবাহ না দিলে তারা আত্মহত্যা করবে বলে উভয়েরই বাড়িতে হুমকি দিতে থাকে । দুজনের পরিবার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে সম্মতিতে এ বছরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারিকভাবে বিবাহ দেন। এর পর থেকে ফাতেমা তার স্বামী ইমনের উত্তর মেন্দা বাড়িতে অবস্থান করত। ইমন পেশায় ভ্যান যোগে দুধ পরিবহন করেন এবং  তার পিতামাতার সাথে উত্তর মেন্দায় বসবাস করেন।

ঘটনার দিন ইমনের মা বাবা বাড়িতে ছিলেন না। ইমন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বাড়িতেই অবস্থান করছিল। বিকালের রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। এরই ফাঁকে ফাতেমা খাতুন নিজ শয়ন ঘরের আড়ার সাথে গোলায় ওড়না পেছিয়ে ঝুলে পড়ে। ইমনের ছোট ভাই জানালা দিয়ে  বিষয়টি দেখে ডাকচিৎকার  শুরু করে।  তার ডাকচিৎকার শুনে  পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢালতে থাকে। এর পরও তিনি সুস্থ্য না হওয়ায় তারা উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

প্রেম করে বিয়ে করার এক মাসের মাথায় আত্মহত্যার মতো ঘটনা এলাবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তবে কি কারণে ফাতেমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো এমন প্রশ্নের কেউ উত্তর দিতে পারে নি। ফলে নববধূর হঠাৎ করে আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে রহস্যের জট উন্মোচন হচ্ছে না।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া এসআই  রেজাউল করিম বলেন,  হাসপাতাল মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ