ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শিমুল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. শিমুল (১৮) চাটমোহর উপজেলার বড় শালিকা এলাকার হাসান আলীর ছেলে। আর অপহৃত স্কুল ছাত্রী পাশ্ববর্তী উপজেলা ভাঙ্গুড়ার নুরনগর এলাকার লুৎফর রহমানের মেয়ে আরাবি আফরোজ লাবন্য (১৬)। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেবার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো হদিস মেলেনি মেয়েটির। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত মেয়েকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, অপহরণ নয় তাদের মধ্যে প্রেম ঘটিত বিষয় থাকতে পারে । ওই তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত স্কুল ছাত্রী আরাবি আফরোজ লাবন্য ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বেসরকারি মডার্ন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার খালার বাসা চাটমোহরের বড় শালিকা এলাকায় হওয়ার সুবাদে ওই এলাকার যুবক মো. শিমুলের নজরে পড়ে। এরপর তাকে বিভিন্ন সময় প্রেম প্রস্তাব দিলেও লাবন্য সেটিতে সম্মতি না দেয়ায় কয়েকজনের সহযোগিতায় লাবন্যের স্কুল থেকে গত ৮ মার্চ তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় শিমুল। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায়, লাবন্যকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই দিনই শিমুলসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় লাবন্যের বাবা। তবে ঘটনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো লাবন্যকে উদ্ধার হয়নি।
এব্যাপারে অপহৃত লাবন্যের বাবা লুৎফর রহমান বলেন, আমার মেয়ে অপহরণের পর ওই ছেলের পরিবার নিজে থেকেই বলেন- তাদের ছেলে শিমুল আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে। এরপর আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছি, দেখছি বলে এক সপ্তাহ অতিক্রম হচ্ছে। আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পুলিশও দিতে পারেনি। আমার মেয়ে বেঁচে আছে, নাকি কি অবস্থায় আছে - আমরা কিছুই জানি না। দ্রুত আমার মেয়েকে উদ্ধারের জোর দাবি জানাই।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) আরিফুল ইসলাম বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। কিছুক্ষণ আগেও আমাদের একটি টিম অভিযানে গিয়েছে। প্রেমঘটিত বা অপহরণ- যে ঘটনাই হোক না কেনো মেয়েটি যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক সেহেতু তাকে উদ্ধার করে তার অভিভাকের জিম্মায় দেয়া হবে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। প্রেমঘটিত কিংবা অপহরণ যাই হোক না কেন মেয়েটিকে উদ্ধার করতে না পারলে অভিভাবক চাইলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ