সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

শিমুল বিশ্বাসকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় পাবনাবাসী

 


পাবনা-৫ (সদর) আসনে জামায়াতের দীর্ঘদিনের প্রভাবকে ভেঙে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি ধানের শীষের প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ ভোট। ১৭ হাজার ৯৮৩ ভোটে পিছিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬ ভোট।

১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের বর্ষিয়ান নেতা প্রয়াত মাওলানা আব্দুস সুবহান। ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগ থেকে ও ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল। দীর্ঘ ৩০ বছর পর পাবনা সদর আসনের বিজয়ী শিমুল বিশ্বাসকে তাই এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।  

জানা গেছে, শিমুল বিশ্বাস জীবনের শুরুতে বাম রাজনীতি করলেও পরে তারেক রহমানের আমন্ত্রণে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপি চেয়াপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ছিলেন। ২০০৪ সালে বিএনপির সময় তাকে বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়। ঐ সময় সারাজীবনের লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিআইডাব্লিউটিসিকে তিনি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিমুল বিশ্বাসকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার। তিনি বলেন, পাবনা থেকে শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী বানানো হলে এই জেলায় দল ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। 

পাবনা নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী বানালে পাবনার মানুষকে সম্মান দওয়া হবে।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সভাপতি ফোরকান রেজা বিশ্বাস বাদশা বলেন, এত বড় মাপের সর্বজন গ্রহণযোগ্য মানুষ, যিনি সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন তাকে সম্মান দেয়া দলের দায়িত্ব।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, পাবনা সদর আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জামায়াতের দূর্গ হিসেবে বলা হয়। সেখানে তিনি এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সদর আসনে এর আগে বিএনপি থেকে কেউ মন্ত্রী হয়নি। আর শিমুল বিশ্বাস একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী মানবিক মানুষ। তাকে মন্ত্রী করা দলেরই দায়িত্ব।

এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ’আমার এই বিজয় কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পাবনার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থার বিজয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সংগ্রাম, ত্যাগ ও পথচলার মূল্যায়ন ভোটাররা করেছেন। আমি গভীরভাবে অভিভূত করেছে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমার জীবনে শুরু হলো নতুন অধ্যায়, নতুন দায়িত্ব ও নতুন অঙ্গীকার।’

তিনি আরও বলেন, ’পাবনাবাসী আমাকে যে বিশ্বাসের আমানত দিয়েছেন, তা রক্ষা করাই হবে আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমার রাজনীতির লক্ষ্য কখনোই অর্থ বা ক্ষমতা নয়; আমার একমাত্র অঙ্গীকার মানুষের কল্যাণ, ন্যায় ও উন্নয়ন। আমি সেদিনই সত্যিকারের হাসবো, যেদিন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটবে, যেদিন অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, দল-মত নির্বিশেষে পাবনার প্রতিটি মানুষের পাশে থাকবো উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ’শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পাবনা গড়ে তুলতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবো। দল যে দায়িত্ব দেবে সেখানেও আমি সততা আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ