এ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াতে থাকে। পাবনা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সবাইকে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানো এবং গুজবে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা-৩ আসনের (ভাঙ্গুড়া-চাটমোহর-ফরিদপুর) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের নেতৃত্বে শুক্রবার দুপুর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাবনা ডিসি অফিসে জড়ো হতে থাকেন। পরে এতে যোগ দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের প্রার্থী ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব, পাবনা-৫ আসনের জয়ী প্রার্থী শাসসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং তার কর্মী-সমর্থকরা।
পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা আন্দোলনকারীদের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মাদ আলী আছগার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তবে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। ফলাফলে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানান।
অপরদিকে, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবীব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৬ ভোট। এ আসনেও বিএনপি প্রার্থী ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন ও হাবিবুর রহমান হাবীবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল পুনর্গণনার জন্য প্রার্থীপক্ষ থেকে করা আবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন। আবেদনটি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছালে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সবাইকে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানো এবং গুজবে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।
.png)
0 মন্তব্যসমূহ