সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

পাবনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪



মনসুর আলম খোকন, সাঁথিয়া, পাবনা: পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এর আগে ঘটনার পর মারা যায় দুইজন। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো দুইজন।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজার রহমান মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সকাল সোয়া ৭ টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল প্রামানিকের ছেলে কামাল হোসেন (৪২), পাবনা পৌর সদরের শিবরামপুর মহল্লার চমন মোল্লার ছেলে হেলপার মেহেদি হাসান জিহাদ (২৮), আটঘরিয়া উপজেলার নরজান গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৬) ও পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাজন আলীর ছেলে আলেফ উদ্দিন (৩৫)। নিহতদের মধ্যে কামাল হোসেন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের চালক ও জিহাদ মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার ছিলেন। বাকি দু'জন মাছরাঙার এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ওসি মুস্তাফিজার রহমান জানান, সকালে যাত্রীবাহী শাহজাদপুর ট্রাভেলস নামের বাসটি পাবনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী মাছরাঙা এক্সপ্রেসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার জিহাদ। খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। সেইসাথে দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার পর বাস দুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দুই বাসের অন্তত অর্ধ শতাধিক যাত্রী।

আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া ও পাবনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাদপুর ট্রাভেলস এর চালক কামাল হোসেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর আলমগীর হোসেন এবং পাবনা থেকে রাজশাহী নেবার পথে আলেফ উদ্দিন মারা যায়।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৩২ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬ জনকে রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওসি মুস্তাফিজার আরো জানান, নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাস দুটি জব্দ করে পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কেউ অভিযোগ দিলে মামলা হবে। আর তাদের কেউ অভিযোগ না দিলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ