রনি ইমরানঃ উত্তরাঞ্চলের নদীবেষ্টিত পাবনা জেলার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা দুই সপ্তাহ চলছে সূর্যের লুকোচুরি। এক দুই দিন পর হঠাৎ সূর্যের দেখা মিলছে। দিনভর বইছে কনকনে ঠান্ডা বাতাস সাথে ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের জনজীবন।
চলমান এই শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক সহ জীবন জীবিকার তাগিদে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষগুলো। তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরম কাপড়ের খোঁজে ছুটছে শীতার্তরা। খড়কুটো জ্বালিয়ে সামান্য উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছে অনেকে।
পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন। এর আগের দিন জেলায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রের্কড করা হয়।
শহরে এ হামিদ রোডে পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীর করছে শীতার্তরা। সামর্থ্যর মধ্যে কিনছে পুরাতন গরম কাপড়। অনেক ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষ গরম কাপড় কিনতে পারছেনা। শীতার্ত এসব মানুষ গরম কাপড়ের জন্য সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছে।
টানা শৈত্যপ্রবাহে জেলার কৃষিখাতে প্রভাব পড়বে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে বরো বীজ তলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে জানায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে বীজ তলা রক্ষায় কৃষকদের নির্দেশনা দিচ্ছেন তারা।
শৈত্যপ্রবাহে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) হতে গত ২৪ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ৪২ জন শিশু ঠান্ডাজনিত অসুখে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ঠান্ডাজনিত অসুখে হাসপাতালে মোট ১২৬ জন রোগী ভর্তি আছে এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করা বেশি।

0 মন্তব্যসমূহ