মাননীয় সংসদ সদস্য,
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল
পাবনা-৪ আসন।
আসসালামু আলাইকুম,
পাবনা-৪ আসনভুক্ত দুটি উপজেলা—ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া—একই সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত হলেও যুগ যুগ ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈষম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।
যেখানে ঈশ্বরদী ক্রমেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ হয়ে “রাজধানীসম” রূপ নিচ্ছে, সেখানে আটঘরিয়া আজও অবহেলা, অনুন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনার চক্রে আবদ্ধ। এ যেন এক ধরনের বৈষম্যমূলক বাস্তবতা, যা অতীতের পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আটঘরিয়া উপজেলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও বৈষম্য দূর হয়নি—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বাস্তবতা।
আমি পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একজন নগণ্য নাগরিক হিসেবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আমাদের প্রিয় আটঘরিয়া উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। এখানে নেই পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, গবেষণাগার কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন। বিশেষ করে রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
মাননীয় সংসদ সদস্য, আমার মূল বিষয় হলো—আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত রত্নাই নদী বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। একসময় এই নদীতে প্রচুর পানি ও মাছ ছিল, যা স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু বর্তমানে নদীটি ভরাট ও দখলের কারণে প্রায় মৃতপ্রায়। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
অতএব, রত্নাই নদী দ্রুত দখলমুক্ত ও খননের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমাদের এই অঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু কৃষি সেবার মান অত্যন্ত দুর্বল। কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকদের জন্য উন্নত ও সহজলভ্য কৃষি সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক নেই বললেই চলে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, জরুরি সেবার সীমাবদ্ধতা এবং মানসম্মত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে রোগীদের অন্যত্র যেতে বাধ্য হতে হয়। এতে সময়, অর্থ এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
মাননীয় সংসদ সদস্য, একটি এলাকার সুষম উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার প্রতিটি অংশ সমান গুরুত্ব পায়। আটঘরিয়ার মানুষও উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও নিরাপদ জীবনযাপনের অধিকার রাখে। তাই এই বৈষম্য দূর করে আটঘরিয়াকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য উপজেলায় রূপান্তর করতে আপনার কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
সবশেষে, আপনারা যখন জাতীয় সংসদে কথা বলবেন, তখন অনুগ্রহ করে আটঘরিয়া উপজেলার সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন—যাতে রাষ্ট্র অবহিত হয় যে, স্বাধীনতার এত বছর পরেও এখানে বৈষম্যের বাস্তবতা বিদ্যমান।
আমরা আশাবাদী, আপনি বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ মনিরুল ইসলাম
(শিক্ষক)
আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের সর্বসাধারণের পক্ষে একজন সচেতন নাগরিক।
(নিউজ পাবনার মতামত কলামে প্রকাশিত সকল লেখা লেখকের নিজস্ব। এর সাথে নিউজ পাবনার সম্পাদকীয় নীতিমালার মিল নাও থাকতে পারে।)
.png)
0 মন্তব্যসমূহ