ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট: পাবনা-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ঘিরে এ উত্তেজনার ঘটনায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পাবনা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুদের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন।
তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, ডিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রচারে ভোটারদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে জামায়াতের নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হট্টগোল দেখা দেয়।
পরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে উপস্থিত হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পাবনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমাদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছিলেন। এ সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী প্রচারে বাধা দেন এবং তাদের লাঞ্ছিত করেন। এমনকি হাত তোলার অভিযোগও রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।”
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাবনা-৫ আসনে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির সমন্বয় আব্দুস সামাদ খান মন্টু।
তিনি বলেন, “জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে এনআইডি নম্বর ও আর্থিক লেনদেনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।”
তবে জামায়াতের নারী কর্মীদের অভিযোগ, বিনা কারণে তাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয়। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের করে কয়েকজনের শরীরে হাতও তোলা হয়।
ওসি দুলাল হোসেন জানান, ভোট চাওয়া নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা হয়েছিল। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
পাবনা-৫ আসনে নির্বাচনি দায়িত্ব পাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফুয়াদ বলেন, “একপক্ষ আরেকপক্ষকে মারধরের অভিযোগ করেছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

0 মন্তব্যসমূহ