।। এবিএম ফজলুর রহমান।।
নিভৃতচারী অকুতোভয় সাংবাদিক এম আনোয়ারুল হক। যিনি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ভাষা সংগ্রামী, ভুট্ট্রা আন্দোলনের সংবাদ পরিবেশনের কারণে কারাবন্দি হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী। তিনি ছিলেন পাবনার সাংবাদিতকতায় সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আজ ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার তার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে পাবনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা এবং পরিবারের পক্ষ থেকে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিক ভাষা সংগ্রামী এম আনোয়ারুল হক ১৯৩৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম তাজ উদ্দিন আহম্মেদ। তার পিতা ব্রিটিশ সরকারের সময় কোলকাতা সিটি কর্পোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তা ছিলেন। মা আমিরুন্নেচ্ছা ছিলেন গৃহিনী। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন একজন নিভৃতচারী প্রচার বিমুখ সৎ সাংবাদিক। তার একমাত্র ছেলে শুশোভন হক টুটুল সাবেক ক্রিকেটার। বর্তমানে স্কয়ার ফার্মা প্যাকেজেজে কর্মরত। তার ছোট ভাই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, প্রাক্তন বাম ছাত্রনেতা নজমুল হক নান্নু, পাবনা জেলা পরিষদের প্রাক্তন প্রশাসক জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মরহুম এম সাইদুল হক চুন্নু ও অপর দুজন। তার দুই মেয়ে। সবাই বিবাহিত।
পাবনা জেলায় সাংবাদিকতার পথিকৃত হিসেবে যাঁদের নাম স্মরণীয় বরণীয় হিসাবে উচ্চারিত হয় তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক আনোয়ারুল হক ছিলেন অন্যতম। একজন ব্যাংকার হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন আমৃত্যুকাল। সমগ্র বাংলাদেশে বিশিষ্ট সাংবাদিক হিসাবে যাঁর নাম খ্যাতির শীর্ষে নিরন্তর সাফল্য গাথা এমনি এক আভিযত্যপুর্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী আনোয়ারুল হক।
তিনি উদিচী শিল্পী গোষ্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সহসভাপতি, পাবনা জেলা কমিটির দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে একাধিবার সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ও রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ সদস্য এবং পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবনাক লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কাজ করেন। এ ছাড়া আমৃত দৈনিক ইত্তেফাকের পাবনা জেলা প্রতিনিধি ছিলেন।
তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে আপদ মস্তক একজন সৎ নির্মোহ ও কির্তিমান সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৫৩ সালে সালে ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হন ও ৭ দিন জেল খাটেন। একই বছর ১৯৫৩ সালে নুরুল আমীন সরকারে বিরুদ্ধে খবর প্রচারের কারণে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৭ সালে পাবনায় ভুট্ট্রা খেয়ে অনেক মানুষ মারা যায়। আনোয়ারুল হকের কলম গর্জে উঠে ভুট্টা খাওয়ার কারণে মানুষ মারা যাওয়াার খবর। পলে সংবাদ প্রকাশের কারণে আবারও গ্রেফতার হতে হয় তাকে। তবে এত কিছুর পরও তিনি কোন সময় অন্যয়ের সঙ্গে আপোষ করেননি। কোন অসৎ কাজ তার দ্বারা করনো যায়নি। পাবনা প্রেসক্লাবের ৫৬ বছর পুর্তিতে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাই বলতে হয় ‘এমন জীবন করিবে গঠন মরিলে তুমি কাদিবে ভুবন’। আনোয়ারুল হক তাই করেছিলেন। আজও পাবনার সাংবাদিকতায় আনোয়ারুল হকের স্থান অপুরনীয়।
২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি আমাদের মাঝ থেকে চির বিদায় নেন। ৮২ বছর বয়সে তিনি সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তবে রেখে গেছেন স্মৃতি বিজরিত পাবনা প্রেসক্লাবসহ তার হাতে গড়া বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
লেখক : এবিএম ফজলুর রহমান, স্টাফ রির্পোটার দৈনিক সমকাল, পাবনা ও সাবেক সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব।

0 মন্তব্যসমূহ