নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত শান্তির বাণী ও সুমহান আদর্শকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, বর্তমান সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সব ধরনের অন্যায়-অবিচার দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও জীবনদর্শনের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকালে পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও মহানবী (সা.)-এর জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসন এই বিশেষ সভার আয়োজন করে।
পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পাবনা সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল মুসলমানদের জন্য নন, বরং সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ও মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিটি কর্ম, সিদ্ধান্ত এবং আদর্শের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সমাজ সংস্কার ও বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ার মূলমন্ত্র। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে তাঁর দেখানো সৎ, নির্ভীক ও মানবিক গুণাবলীর চর্চা বাড়াতে হবে।" তিনি তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদ ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে মহানবীর (সা.) জীবনালেখ্য বেশি বেশি পড়ার ও চর্চা করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ তাঁর বক্তব্যে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামের চিরায়ত শান্তির বার্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু মহানবীর (সা.) মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরে বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মহানবীর (সা.) শিক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন। অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির সার্বিক সুখ, শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
.jpg)
