পাবনার সাঁথিয়ায় নাশকতার প্রস্তুতি ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাঁথিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতিকুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে—সাঁথিয়া পৌরসভার চোমরপুর কলেজ মাঠে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। তারা নৌকা প্রতীকের স্লোগান দিতে দিতে সাঁথিয়া-সিএন্ডবি সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলে বোয়াইলমারী কবরস্থানসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন যানবাহনে উঠে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি হাঁসুয়া, সাতটি লোহার রড, দুটি লোহার পাইপ, ১৭টি বাঁশের লাঠি এবং একটি ব্যাগে রাখা ৪০টি ইটের টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
মামলায় সাঁথিয়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাঁথিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন জয়, সাঁথিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মাহবুবুল আলম বাচ্চু এবং সাঁথিয়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সেলিম হোসেন।
মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য আসামিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা পলাতক থাকায় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, নাশকতার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে গোপন তথ্য ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা সটকে পড়েন। স্থানটি থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
.jpg)
