রনি ইমরান, পাবনা: ১৮৭৬ সালে স্থাপিত দেশের প্রাচীনতম পাবনা পৌরসভা ১৯৮৯ সালে প্রথম সারিতে উন্নীত হয়। দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পেরিয়েছে তবুও আধুনিক পৌরসভায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছে শহরবাসী।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শহর থমকে থাকা ভয়াবহ যানজট, জলজট, স্বল্প লোকবলে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা না পাওয়া সহ নানা সংকটে ধুঁকছে দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধি বিহীন পাবনা পৌরসভা। শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের দক্ষিণে অফিস আদালত উত্তরে থানা হাসপাতাল মাঝখানে দোকান মার্কেট বাজার।
প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে রাস্তাটি ভয়াবহ যানজটে থমকে থাকে। কখনো মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, কখনো দ্রুত আগুন নেভানোর জন্য ছুটেচলা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভয়াবহ যানজটে অনেকক্ষণ আটকে থাকতে দেখা যায়। পাবনা পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের মোট ২২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৭০ শতাংশ সড়কেরই বেহাল দশা। এসব রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার ও ভারি যানবাহন চলাচলে রাস্তাগুলো বেশি দিন টেকসই হয়না বলে মনে করেন শহরের রাস্তায় চলাচলরত চালক ও যাত্রীরা।
শহরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সহজ পানি প্রবাহ নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি থাকার একটু বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলজট। এতে শহরবাসীর দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে তোলে। মিলে কাঁচামালবাহী যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। একইভাবে উৎপাদিত পণ্যও বাজারে পাঠানো সম্ভব হয় না। ফলে ব্যবসা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শহরে সরজমিনে দেখা যায়, বাসা বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলে ড্রেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাবনা পৌরসভার ব্যস্ততম বড় বাজার ও কালাচাঁদপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বর্ষার শুরু থেকেই শহরের প্রাণকেন্দ্রের ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, শহরের অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি আছে পাশাপাশি সহজ পানি নিষ্কাশনের জন্য আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা যেন নিজের শহর পরিষ্কার ও জলজট মুক্ত রাখতে ড্রেনে ময়লা আবর্জনা প্লাস্টিক না ফেলি।
পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে জনবলসংকট রয়েছে প্রকট। পৌরসভায় স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারীর পদ আছে ১২৪টি। কিন্তু কর্মরত আছে ৭১ জন, শূন্য রয়েছে ৫৩টি পদ। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা ৬৬০ জন। বর্তমানে আছে মাত্র ১৯৪ জন, আর শূন্য ৪৬৬ জন। ড্রেনেজ পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজন ১২০ জন, এর বিপরীতে কাজ করছে মাত্র ৪৫ জন। শূন্য ৭৫ জন। নতুন করে নিয়োগ না থাকায় এই অল্পসংখ্যক জনবল দিয়েই কাজ চালাচ্ছে পাবনা পৌরসভা।
বিগত সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) আদেশে গোটা দেশের ন্যায় পাবনায় নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরকে অপসারণ করা হয়। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় পাবনা পৌরসভায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন, শহরের সচেতন নাগরিকরা। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও সনদ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি ও পৌর এলাকাগুলোতে তদারকির অভাবে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।
পৌর এলাকার একজন ভুক্তভোগী বলেন, জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিকত্বের সনদ পেতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় কাউন্সিলর ও তাদের তদারকি না থাকায় দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
পাবনার স্থানীয় দৈনিক বিবৃতির সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ ইয়াছিন আলী মৃধা রতন বলেন, পৌরসভার সেবা মান নিয়ে মানুষের মাঝে ক্ষোভ হতাশা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় তদারকি ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হচ্ছে না।
পাবনার সিনিয়র সাংবাদিক কৃঞ্চ ভৌমিক বলেন, এতো পুরাতন একটি পৌরসভার সেবার মান নিয়ে মানুষ অসন্তুষ্ট এছাড়া দীর্ঘ সময় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এই সঙ্কট আরো গভীর করে তুলছে।
.jpg)
