গত ২২ জুলাই পাবনা পৌরসভার আরিফপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় চাঁদা না দেয়ায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টালসহ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুলাই পাবনা সদর থানার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে পাবনা সদর থানা। যা পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
ঘটনার অন্তরালে অন্য ঘটনা।
*বিষয়ঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদা দাবির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার অন্তরালে মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে স্বার্থন্বেষী মহলের প্ররোচনায় ইউটিউবার কর্তৃক বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সংবাদ প্রসঙ্গে।*
*ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ*
গত ২২-০৭-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক ১৮:৩০ ঘটিকায় পাবনা সদর থানাধীন পৌর এলাকার আরিফপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মোক্তার হোসেনের বসতবাড়িতে স্থানীয় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি হামলা চালিয়ে বাড়ির জানালার কাঁচ ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরবর্তীতে এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত ঘটনাকে "চাঁদা দাবি" সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে ভিডিও প্রচার করে যা দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে বিষয়টি তদন্তকালে স্থানীয় সূত্র, গোপন তথ্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনাটি মূলত মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনা। চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে স্বার্থন্বেষী একটি মহল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে।
*পুলিশ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাঃ*
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয় এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। মাদক ব্যবসায়ী অভিযুক্ত মুক্তার যার বাড়ি ও মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে তাকে মাদক সহ আটকের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
*সারমর্মঃ*
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ভাইরাল ভিডিওতে প্রচারিত চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ঘটনাটি মূলত মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনা, যা স্বার্থন্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
.jpg)
