আটঘরিয়া প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের কয়রাবাড়ী গ্রামে এক নারীর ক্রয়কৃত বসতভিটার জমি জোরপূর্বক জবর দখল এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তোফাজ্জল হোসেন গংদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী খালেদা খাতুন (৪৫) বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার জিডি নম্বর- ১৬১৪।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, কয়রাবাড়ী গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর মেয়ে খালেদা খাতুন কয়রাবাড়ী মৌজায় (জেএল নং- ৬৫, খতিয়ান নং- ১২৬, দাগ নং- ৩৪৬) এর ৭ শতাংশ বসতবাড়ী জমি ক্রয় করেন।
কিন্তু উক্ত জমি দীর্ঘ দিন ধরে একই এলাকার মৃত নজির বিশ্বাসের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৫৫), রফিকুল ইসলাম (৫২), মুকুল হোসেন (৪৫) এবং মৃত তেয়াজ উদ্দিনের ছেলে মুক্তার হোসেন (৫৫) জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছে।
ভুক্তভোগী খালেদা খাতুন তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার তাগিদ দিলে বিবাদীরা "আজ-কাল" বলে তালবাহানা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় খালেদা খাতুন বিবাদীদের বসত বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে নিজের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ সময় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। খালেদা খাতুন এর প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে তাঁকে মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে।
এ সময় খালেদা খাতুনের ডাক-চিৎকারে আশপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা কৌশল অবলম্বন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদীদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি এবং জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এমতাবস্থায় নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে খালেদা খাতুন আটঘরিয়া থানায় এই সাধারণ ডায়েরিটি দায়ের করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তারা বাদী খালেদা খাতুনের স্বামী নজরুল ইসলামকে হত্যা হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম জানান,গত কয়েক দিন যাবত রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে ৫ থেকে ৭ জন মুখোশধারী ব্যক্তি আমার বাড়িতে এসে আমার গলায় ছুরি ধরে ঐ জমিতে গেলে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় এবং নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলে যায় ।
বাদী খালেদা খাতুন আরও জানান, আমারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমারা দ্রুত প্রশাসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এ ব্যাপারে দেবোত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাঙা জানান, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার এই জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শালিস-বিচার করা হয়েছে কিন্তু বিবাদী পক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছে। তারা জমি ফেরত দেওয়ার নামে অদৃশ্য শক্তির প্রভাব খাটিয়ে কালক্ষেপন করছে।
আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বাস দেন।
.jpg)
