আটঘরিয়া প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার অভিরামপুর গ্রামে পুকুরের পাড় সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেবোত্তর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সোবহান এর বিরুদ্ধে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে আটঘরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম শহিদুল আলম হিরা (৭৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ.কে.এম শহিদুল আলম হিরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিজস্ব জমিতে খনন করা পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি পুকুরটি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তিনি পাড় সংস্কারের জন্য স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিককে কাজ দেন এবং নির্ধারিত পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন। কাজ চলাকালে গত ৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সোবহান অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন।
এতে তিনি আপত্তি জানালে অভিযুক্ত সোবহান তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের চেষ্টা করেন। প্রাণভয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে গত ৭ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত সোবহান তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযোগকারীর দাবি "পরিবারের সদস্যদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে।" এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির হওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর সন্তানদের পুকুরের পাড়ে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষীসহ এলাকার অনেকেই অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম শহিদুল আলম হিরা অভিযোগ করে বলেন, "সোমবার (২৭ জুলাই) দেবোত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের ৩ নং ওয়ার্ড এর সভাপতি সোবহান আমার ভাগ্নী শুকুর আলীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আমার বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট করার হুমকি দিচ্ছে এবং আমাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়। এর আগেও আমার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন দেবোত্তর ইউনিয়নের ৩ নং যুবলীগের সভাপতি সোবহানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।"
এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে.এম শহিদুল আলম হিরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।"
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোবহানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
.jpg)
