মাসুদ রানা: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম। পিতা: মৃত ইউসুফ আলী। সে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবারের দাবি, মানসিক অসুস্থতার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে শিকল দিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
রোববার (১৩ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুস সালাম বাড়ির আঙিনায় শিকলবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এ অবস্থায় আছেন।
তাদের অভিযোগ, পারিবারিক অবহেলা ও নির্যাতনের কারণে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এতদিন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে না এলেও সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আব্দুস সালামের পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং বিভিন্ন সময়ে নিজের ও আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করছেন। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাকে শিকল দিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তার প্রতি কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয় না বলেও পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটি নির্যাতনের ঘটনা নয়; বরং একজন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অনাকাঙ্ক্ষিত কিন্তু বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যকে একতরফাভাবে গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, আব্দুস সালামের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে দাবি করেন।
.jpg)
