পাবনা (ঈশ্বরদী): পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) হত্যা মামলায় সাতজনকে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ইমানুল প্রামাণিক (এনামুল) বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ও জিয়া সাইবার ফোর্স উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন। এ হত্যা মামলায় এক নাম্বার আসামি করা হয়েছে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর এলাকার মৃত কুরমান আলীর ছেলে রাজনকে (২৪)।
নামীয় অন্য আসামিরা হলেন-একই এলাকার শাজাহানের ছেলে রুবেল (২৭), মৃত কুরমান আলীর ছেলে স্বপন (৪০), শাজাহানের ছেলে নয়ন (৩০), মৃত আজাহারের ছেলে শাজাহান (৬৫), মৃত কুরমান আলীর ছেলে সুমন (২৬) স্বপনের ছেলে সাজিম (১৯)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী ইমানুল প্রামাণিক উল্লেখ করেন, আসামিদের সঙ্গে জমিজমা বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল নিহত ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগের।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে জানতে পারি, দুপুরে আড়াইটার দিকে আমার ছেলে সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারের কাছে গিয়েছে। সেখানে তার বন্ধু অন্তর, শান্ত, রিশাদসহ স্থানীয় অন্য বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়। সন্ধ্যার পর সোহাগ, অন্তর, রিশাদ মোটরসাইকেলে করে ঈশ্বরদী বাজারে আসে।
পরে রিশাদকে নামিয়ে দিয়ে অন্তরকে সঙ্গে করে পুনরায় গোপালপুর আখ সেন্টারে ফিরে আসে।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপালপুর আখ সেন্টারের পেছনে মিজান নামে একজন তালতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বলে সোহাগের কাছ থেকে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের জন্য অপেক্ষমান থাকা অবস্থায় রাত পৌনে ১০টার দিকে সাঁড়া গোপালপুর স্কুল মাঠের পেছন থেকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় গুলি করতে করতে রেল লাইনের ওপরে আসে। গোলাগুলির শব্দ শুনে ছেলে ও তার বন্ধু অন্তরসহ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই সোহাগকে প্রথমে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।
পরে আসামিরা সোহাগের মাথা, কপাল ও মুখে কোপায় এবং ডান পাশের বুকে ও গলার নিচে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত সোহাগের বাবা। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করবে।

0 মন্তব্যসমূহ