সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে নলকূপ স্থাপনের অপচেষ্টা



ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকার অনুমোদিত ক্ষুদ্র প্রকল্পের আওতায় অগভীর নলকূপ থাকা সত্ত্বেও সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনুমোদিত জোত ভূমির এরিয়ার ভেতরে উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহম্মেদের বিরুদ্ধে পুনরায় অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে । উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের হাটগ্রাম মৌজায় কৃষি জমিতে সেচ কাজের জন্য সরকার অনুমোদিত ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের ক্যাচমেন্ট এরিয়াতে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সেচ নীতিমালা সম্পূর্ণরূপে অমান্য করা হচ্ছে। 

অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি (ক্ষুদ্র সেচ) প্রকল্পের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহামেদ সুবিধা নিয়ে সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে ওই এলাকার মোঃ কলিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন ও মোঃ গহের প্রামানিকের ছেলে মোঃ হাফিজুর খা এবং যোগসাজশে প্রভাব খাটিয়ে অগভীর নলকুপটি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে ঔ অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে বলে অভয় দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি (সেচ) প্রকল্পের মালিক উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহমেদের নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিলে তিনি তা কর্ণপাত করেন নি। 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন যে, সেচ প্রকল্পের মালিক মোছাঃ মাজেদা খাতুন এবিষয়ে অনক্-৭ লাইসেন্স ধারীনি গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ শে প্রধান প্রকৌশলী বিএডিসি কৃষি ভবন, ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে উপ সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) বিএডিসি ভাঙ্গুড়া ও সদস্য সচিব উপজেলা সেচ কমিটি ভাঙ্গুড়া এক সভায় সদস্যবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিশিষ্ট (ছক-ঘ) তে উপস্থাপিত মোঃ কামাল হোসেন ও হাফিজুর খার আবেদন গুলো আপতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে অত্র এলাকার মোঃ কলিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন ও মোঃ গহের প্রামানিকের ছেলে মোঃ হাফিজুর খা এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি (সেচ) প্রকল্পের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহমেদের যোগসাজশে প্রভাব খাটিয়ে অগভীর নলকুপটি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে ঔ অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে বলে অভয় দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের হাটগ্রামের বেলালুর রহমানের স্ত্রী মাজেদা খাতুনকে ৩০ নভেম্বর ২০২২ইং সালে জে এল নং ৬০ খতিয়ান নং ১৩৩০ ও ২৮৭৭ দাগে অগভীর নলকূপ স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করেন তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান। সেই থেকে জনাবা মাজেদা খাতুন ম্যানেজার হিসেবে প্রায় ৪ বছর ধরে অনক্ ৭নং লাইসেন্স মূলে এটি পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে গত ২৬ জুন ২০২৪ সালে সাবেক ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাফিজ রঞ্জু এবং উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ কাওছারের আহম্মেদ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রভাব ঘাটিয়ে ২৯১২, ২৯২৩, ২৯২৪, ২৯২৫, ২৯২৬,২০৫২,২০৫৭,২৯৩১,২৯৩৬,২৯২৯ দাগে প্রায় ৩০ বিঘা জোত ভূমি মাজেদা খাতুনের বিএডিসি অনূমোদিত অগভীর নলকূপ স্থাপন করা এরিয়া থেকে মধুগাঁতী গ্রামের মোঃ আব্দুল গফুরের মোঃ হাফিজুর রহমানকে আবেদন করিয়ে অনুমোদন করিয়ে দেন। মাজেদা খাতুনের দাবি বার বার তার অনুমোদিত এরিয়ার অগভীর নলকূপ অনুমতি দিলে তিনি কোথায় সেচের কাজ করবেন।

তিনি আরও জানান অগভীর নলকূপটির সেচের মাধ্যমে এলাকায় কৃষি ফসল উৎপাদন হয়ে আসছে সুনামের সহিত এবং মাজেদা খাতুনের অগভীর নলকূপের অনমোদিত এরিয়ার ভিতরে পানি দেওয়া নিয়ে কোন সুফলভোগীদের অভিযোগ নেই। তারপরও উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাওছার আহমেদ বিশেষ সুবিধা নিয়ে পার্শ্ববর্তী অগভীর নলকূপ গুলো থেকে বোরিং দূরত্বের মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে অগভীর নলকূপটির লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আরো জানা যায় প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহমেদ টাকার(উৎকোচের) বিনিময়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় এধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কৃষকদের  মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরিতে তিনি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি) ভাঙ্গুড়া উপজেলার ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের উপ সহকারি প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব মোঃ কাওছার আহম্মেদ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন। কিন্তু অনুমোদিত ক্যাচমেন্ট এরিয়ার মধ্যে কেন্ পুনরায় অগভীর নলকুপ স্থাপনের অপচেষ্টা করছেন এমন প্রশ্নের তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি তাপস কুমার পাল এর জানতে অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ