আ.লীগ নেতার নিয়োগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে অভিযোগ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে ২০০০ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হেদায়েতুল হককে প্রধান শিক্ষক পদে বসানো হয়। এরপর প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি অবৈধভাবে ওই পদ দখলে রেখেছেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রতিবেশী শাহাদাত হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ-
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা বাজার এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইয়াকুব আলী ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্তির আগে যোগদানকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বহিরাগত কাউকে নিয়োগ দিতে হলে ন্যূনতম ১০ বছরের শিক্ষকতা অথবা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এসব শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওয়াজী উদ্দিন খানের প্রত্যক্ষ চাপে ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাকিবিল্লাহর ছোট ভাই হেদায়েতুল হককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে বাধ্য করা হয় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে। তিনি ২০০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
অভিজ্ঞতা ছাড়াই এমপিওভুক্তি-
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করে হেদায়েতুল হক সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত হন। কীভাবে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্তি অনুমোদন পেল, সে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
আপত্তি চেপে রাখা ও রাজনৈতিক উত্থান-
বিধিবহির্ভূত নিয়োগের সময় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আপত্তি তুললেও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে বিষয়টি চাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে হেদায়েতুল হক নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তিনি ২০১৬ ও ২০২১ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন অদৃশ্য থেকে যায়।
সরকার পতনের পর অভিযোগের স্রোত-
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ পেতে শুরু করলে গত ২১ ডিসেম্বর মাউশিতে এবং ২৯ ডিসেম্বর পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি তাপস পালকেও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া-
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি তাপস পাল বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল হকের বক্তব্য জানতে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

0 মন্তব্যসমূহ