সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় ভিজিএফের চাল আত্মসাতের চেষ্টা ফাঁস হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য



ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযহা (কোরবানি ঈদ) উপলক্ষে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গরিব, অসহায় ও দুস্থ্যদের জন্য বরাদ্দকৃত গরীবের চাউল বিতরণের আগেই ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের হানা দেওযার অপকৌশল ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তালিকায় পিআইও অফিস, সাংবাদিক, মানিক টাইপিং, গ্রাম পুলিশ, শাহিন, ট্যাগ অফিস, থানা ও পরিষদ সচিব ১৫টি মোট ৮০০ কেজি চাউল এভাবে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ উঠেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুল ও ৯ জন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এমন অপকৌশল ফাঁস হওয়ার পর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নে মোট বরাদ্দকৃত ১,২৭০ জন উপকারভোগীকে আগামী ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাউল দেওয়া হবে। অথচ বিতরণের আগেই পূর্ব পরিকল্পনা আনুযায়ী ৯ জন ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষরসহ একটি পৃথক তালিকা তৈরি করা হয়েছে । ওই তালিকায় যেখানে ৮০টি কার্ড বরাদ্দ দেখানো হয়েছে বিভিন্ন অফিস ও ব্যক্তি বিশেষের নামে। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের তৈরিকৃত তালিকাটি অনুযায়ী বরাদ্দ দেখানো হয়েছে পিআইও অফিস ১০টি, সাংবাদিক ৫টি, মানিক টাইপিং ১০টি, গ্রাম পুলিশ ১০টি, শাহিন ৫টি, ট্যাগ অফিস ৫টি, থানা ২০টি ও পরিষদ সচিব ১৫টি মোট ৮০০ কেজি চাউল । বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর ইউনিয়ন জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইউনিয়নের প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা গরীবের চাউলে ভাগ বসানো জন্যই এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন,“ঈদের আগে থানা থেকে, বিভিন্ন অফিস থেকে, এমনকি রাজনৈতিক নেতারাও ঈদের বোনাস চায়। আমরা যে সামান্য ভাতা পাই, তা দিয়ে তো এসব খরচ মেটানো সম্ভব না। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঈদ খরচ মেটাতে কিছু কার্ড বরাদ্দ রেখেছি। তবে তালিকাটা ছিল গোপনীয় এখন সেটা প্রকাশ পাওয়ায় আমরা সবাই লজ্জায় পড়ে গেছি।”

তালিকা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য রতন আলী বলেন, “চাউল বিতরণের সময় অনেক গরীব-দু:খী কার্ড ছাড়াও চলে আসে। তাদের কথা চিন্তা করে আমরা সবাই মিলে বসে কিছু চাউল আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।”

ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অষ্টমনিষা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা জাহান বকুলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, “আমার অফিসের নাম ব্যবহার করে তারা যে তালিকা তৈরি করেছে, সেটি আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,“ভিজিএফ চাউলের বরাদ্দে থানার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দু:খ ও লজ্জাজনক। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ডাকা হয়েছে। তদন্ত করে সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ