পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভার তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান, দুইবারের সাবেক মেয়র এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলু (৬৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর এলাকায় নিজ বাসায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান।
শনিবার রাত ১০টায় ঈশ্বরদী শহরের লোকোসেড ফুটবল মাঠে জানাজার নামাজ শেষে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থানে মরহুমের দাফন করার কথা রয়েছে।
মকলেছুর রহমান বাবলু ঈশ্বরদী শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর এলাকার রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মরহুম আফসার আলীর ছেলে।
তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনবার পৌর চেয়ারম্যান ও দুইবার পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্যও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন মকলেছুর রহমান বাবলু। ওই মামলায় পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার অপর ৪৭ আসামির সঙ্গে উচ্চ আদালতের রায়ে বাবলু খালাস পান।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান বলেন, আশির দশকে বাবলু পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেন। জনপ্রিয়তার কারণে তিনি তিনবার পৌর চেয়ারম্যান এবং দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।
বাবলুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস সুমন এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
.jpg)
