মাসুদ রানা : টেবিলে প্লেটে থরে থরে সাজানো নানা রঙের পিঠা। পাকান, ভাঁপা, পুলি, চিতই, পাটিশাপটা, নকশি পিঠা, ফুল পিঠা, মাল পোয়া, রস পাকনসহ নাম না জানা হরেক রকম পিঠা। এ যেন রসের মেলা। নানা স্বাদের বাহারী এসব পিঠা দেখলেই মুখে জল চলে আসবে যে কারো।
পাবনার আটঘরিয়ার দেবোত্তর হ্যাপি টেকনোলজিস্ট এর উদ্যোগে পারিবারিক ১১তম পিঠা উৎসব উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা কমপ্লেক্সে দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে চয়টার সময় ১১তম এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন হ্যাপী টেকনোলোজি পরিবার। যেখানে নানান স্বাদের প্রায় শতাধিক রকমের পিঠা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন গৃহিণী, শিক্ষার্থীসহ অনেকে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নানা রকম পিঠা। যান্ত্রিক জীবনে নতুন প্রজন্ম কতটুকুই জানে না এসব পিঠার নাম। গ্রাম-বাংলার বিলুপ্ত প্রায় লোকজ ঐতিহ্যবাহি খাবার ধরে রাখা ও নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব।
এসময় পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সানজিদা মুস্তারি।
হ্যাপি টেকনোলজিস্ট কিডস ফেয়ার স্কুলের অধ্যক্ষ আফরোজা সাঈদ এর সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শফিকুজ্জামান সরকার, দেবত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মাহবুবা খাতুন। পরে অতিথিরা পিঠার স্টল ঘুরে দেখেন।
উৎসবে বাহারী সব পিঠা দেখে মুগ্ধ নানা বয়সী দর্শনার্থী। গৃহবধূ রুমানা খাতুন, শিক্ষার্থী মারিয়া খাতুন জানান, উৎসবে এসে তারা নতুন নতুন পিঠার নাম জানতে পারেন। বাড়িতে গিয়ে ওইসব পিঠা বানানোর চেষ্টা করেন। এভাবেই গ্রামবাংলার পিঠাকে ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
উৎসবের আয়োজক দেবোত্তর বাজারের হ্যাপি টেকনোলোজির পরিচালক আবু সাইদ জানান, বিলুপ্তপ্রায় নাম না জানা পিঠাগুলো নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করে দিতে ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এমন আয়োজন বলে জানান। ১১তম এবার আয়োজন হলো। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
ওসি শফিকুজ্জামান সরকার, এমন সুন্দর আয়োজন সত্যি ভাললাগার মতো। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যকে আমাদের সবাইকে ধরে রাখতে হবে। এজন্য আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনে পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।
আটঘরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সানজিদা মুস্তারি বলেন, শীতের সময়ে গ্রামের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহি খাবার এই পিঠা। অনেকেই বিদেশী খাবারের দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম। তাই গ্রামবাংলার সুস্বাদু খাবার পিঠাকে ধরে রাখতে এমন আয়োজন আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার।
উক্ত পিঠা উৎসবে প্রথম হয়েছেন সাদিয়া খাতুন (গুড়ের সন্দেশ) দ্বিতীয় হয়েছেন সুমাইয়া পারভীন (দুধের চিতই পিঠা) তৃতীয় হয়েছে রুমানা খাতুন (ডিমের পিঠা)।
.jpg)
