পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এলাকায় সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণে ২৪টি স্বয়ংক্রিয় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, দুধ ও শাকসবজির মান নিয়মিত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবরের অনুরোধে সহযোগী দেশ বিনামূল্যে এই আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করে দিয়েছে।
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ভবিষ্যতে এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও নিয়মিত পরিমাপ করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও জনআস্থা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে এই ২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় বসানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানী তেও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকার পরিবেশগত বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের নিরাপদ অঞ্চল গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সেখান থেকে সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গত প্রায় এক দশক ধরে এলাকার বাতাস, মাটি, পানি, ঘাস, শাকসবজি ও দুধের পরিবেশগত তথ্য এই ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে পরিবেশে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দ্রুত তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগৃহীত তথ্য জনসাধারণের কাছেও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ