পাবনার সুজানগরে ৫ বছরের এক শিশু ধর্ষণের মামলা করে বিপাকে পড়েছেন শিশুটির দরিদ্র পরিবার। মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালী মহল থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৫ জানুয়ারি ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এতদিন সালিশের নামে নানা টালবাহানা এবং প্রভাবশালীদের কূটকৌশলে বিষয়টি প্রায় ধামাচাপা পড়েছিল। কিন্তু শিশুটির ইনফেকশন হয়ে অবস্থা খারাপ হলে শিশুটির মা ১৩ মে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
সুজানগর থানার ওসি জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ১৩ মে ১৫ বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই কিশোর পলাতক রয়েছে। ধর্ষক ওই কিশোর সুজানগরের সাতবাড়ীয়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার কামরুল ইসলামের ছেলে। কামরুল ইসলামের বাড়ি একই উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে শিশুটিকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। ধর্ষণের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে শিশুটির মা ধর্র্ষক কিশোরের মাকে জানান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দাবি করলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেয় ধর্ষণকারী কিশোরের পরিবার এবং সালিশের কথা বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে।
ধর্ষণের ফলে শিশুটির যৌনাঙ্গে জখম হয়ে ইনফেকশন হওয়ায় ১৩ মে দ্রুত তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ওসিসিতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। একইদিন অভিযুক্ত ওই কিশোরকে আসামি করে সুজানগর থানায় মামলা দায়ের করেন ধর্ষিত শিশুটির মা।
এদিকে মামলা দায়ের ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অর্থের মাধ্যমে বিবাদীর সঙ্গে সমঝোতা করতে এবং মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রভাবশালীদের পক্ষে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে নির্যাতিত শিশুটির মা অভিযোগ করেন।

0 মন্তব্যসমূহ