পাবনা প্রতিনিধি : সংবাদ প্রকাশের পর পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই হওয়া ৭০ হাজার টাকা ও প্রশাসনের ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ উদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বুধবার (২২ মে) রাতে মো: বেলাল হোসেন (৪০) নামে একজন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কান্তি কুমার মোদক।
আটক বেলাল হোসেন ঈশ্বরদী উপজেলার জগন্নাতপুর এলাকার মো: শহীদুল ইসলামের ছেলে।
এর আগে “পাবনায় ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশের গড়িমসি!” শিরোনামে গত সোমবার (২০ মে) দেশের জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে পাবনার পুলিশ প্রশাসন।
ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাবনার ইভা প্রাইভেট কোম্পানির একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা কুষ্টিয়া থেকে লুব্রিকেন্ট বাজারজাত করে পাবনায় ফেরার পথে ঈশ্বরদীর সাহাপুর মসজিদ মোড় এলাকায় পৌছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ৪ ছিনতাইকারী একটি সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে সিএনজির গতিরোধ করে। সিএনজিতে বসে থাকা ইভা প্রাইভেট কোম্পানির ম্যানেজার মো: জাহিদ এমরানকে ডিবি পরিচয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসের সিটের নিচে আটকে রাখে। এ সময় ম্যানেজারের পকেটে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
অপরদিকে দুই ছিনতাইকারী সিএনজি চালক মো: জাহাঙ্গীর আলমকে বেধরক মারপিট করে ছলিমপুরের একটু দূরে নিয়ে সিএনজি চালকের মোবাইল থেকে ইভা প্রাইভেট কোম্পানির মালিক মো: ইয়ার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়ে সিএনজি চালক মো: জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেয় এবং ম্যানেজারকে দাশুড়িয়া-রূপপুর মহাসড়কের পাশে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয় ছিনতাইকারীরা।
এঘটনায় গত ১৩ই এপ্রিল ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ দাখিল করেন ইভা প্রাইভেট কোম্পানির ম্যানেজার মো: জাহিদ এমরান। অভিযোগ দাখিলের পরপরই ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অধিক তদন্ত পূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর কান্তি কুমার মোদককে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে তদন্ত শুরু করেন এসআই কান্তি কুমার মোদক।
তদন্তের শুরুতেই এসআই কান্তি কুমার মোদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঈশ্বরদীর জগন্নাতপুর এলাকার মাসুমের বিকাশের দোকান থেকে ছিনতাইকারীরা টাকা উত্তোলন করে সেই দোকান খুঁজে বের করে দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অপরাধীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন।
ঘটনার এক মাস ১২ দিন পরে একজন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত প্রশাসনের হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

0 মন্তব্যসমূহ