সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় নির্বাচনে হেরে আ’লীগ নেতা বললেন ইভিএম ভুয়া!

 



ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ ইভিএমকে (ইলেক্টনিক ভোটিং মেশিন) ভুয়া বলায়  ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। তিনি হলেন জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি  ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুর রহিম পাকনের আপন ছোট ভাই। 


তিনি চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ২৬৭৯ ভোট। পরাজিত হয়েছেন ২৮ হাজার ৮শত ৮০ ভোটের ব্যবধানে।  বিজয়ী প্রার্থী গোলাম হাসনাইন রাসেল মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ৫শ ৫৯ ভোট। নির্বাচনের পর ভোট গণনা শেষে পরাজিতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইভিএমকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে  নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ পোস্ট করে নতুন করে সমালোচনায় পড়েছেন। একজন আওয়ামীলীগ নেতা হয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণকে কিভাবে ভুয়া বলেন ? এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে।


জানা গেছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২১ শে মে ইভিএম (ইলেক্টনিক ভোটিং মেশিন) এর মাধ্যমে ৪৫ কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত  হয়।  এই উপজেলায় তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য  মোঃ বাকি  বিল্লাহ আনারস প্রতীক নিয়ে ও অন্যজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাইন রাসেল । 


সহকারি রির্টাানিং কর্মকর্তার ঘোষিত বেসরকারিভাবে ফলাফলে নির্বাচনে গোলাম হাসনাইন রাসেল মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩১হাজার ৫শত ৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেজবাহুর রহমান রোজ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৬শ ৭৯ ভোট যা বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে  ২৮ হাজার ৮শত ৮০ ভোট কম।  এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০৩১৯১ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫১৭৭৮ জন ও মহিলা ভোটার ৫১৪১২ জন । এ নির্বাচনে এই উপজেলায় ভোট পড়েছে শতকরা ৩৩.৭৯৫ ভাগ। 


সূত্র জানায়, ফলাফল প্রকাশের পর চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ তার নিজের পরাজয়ের খবর পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন ‘৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের ২য় ধাপে পরাজিতের অভিজ্ঞতা থেকে আগামী ৩য় ও ৪র্থ ধাপের প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ, ইভিএম (ভূয়া) সংশ্লিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা , পদ্ধতি ও ক্ষমতাশালীদের প্রতি স্বজাগ দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করছি।’



একজন আওয়ামীলীগ নেতা তার সরকারের ইভিএম এ ভোট গ্রহণ কার্যক্রম নিয়ে এমন মন্তব্য নিয়ে জনসাধাণের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ ‘৭৫ এর পর তিনি বিদেশে অবস্থান করেন। সেখানে কর্মজীবন শেষ করে  গত কয়েক বছর পূর্বে তিনি দেশে ফিরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে বসবাস করছেন এবং নিড়িবিলি পরিবেশে  থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম পাকন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।


ঘটনার বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম মেছবাহুর রহমান রোজ নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দাবী করে বলেন, সরকার ভুল করলে তার সমালোচনা করা ভিন্ন রকম কিছু নয়।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রির্টানিং অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, ইভিএম এর মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে কোন প্রার্থীর কোন অভিযোগ পাননি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ