সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

‘স্বপ্নজয়ী মা’ সম্মাননার জন্য মনোনয়ন পেলেন পাবনার রহিমা খাতুন



গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদফতর হতে ‘স্বপ্নজয়ী মা’ সম্মাননার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রহিমা খাতুনকে। আগামীকাল বিকাল ৩:০০ টায় রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে। 

রহিমা খাতুন এক লড়াকু মায়ের নাম। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিধবা হন তিনি। তখন তার সন্তান সংখ্যা ছিল ৪ (চার) জন। সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছালমা খাতুনের বয়স তখন মাত্র দেড় বছর। স্বামীর তেমন কোন সম্পদ ছিলনা। সেলাই এর কাজ করে এবং সামান্য কিছু জমির উপর নির্ভর করে খেয়ে না খেয়ে এই মা তার সন্তানদের লালন পালন করেছেন। 


মাত্র পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ন রহিমা খাতুন তার নিজে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ না পেলেও বন্ধ হয়ে যায়নি তার স্বপ্ন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নিজে না পারলেও সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। তার এই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা ছিল অত্যন্ত সংগ্রামময়। তিনি হাল ছাড়েন নি সহসাই। নারী হয়ে কৃষি কাজ দেখাশোনার পাশাপাশি হাল ধরেন কিভাবে সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করবেন।


মা রহিমা খাতুনের বড় ছেলে মোঃ আব্দুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (সম্মান) ও এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনা জেলা স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন। মেঝ ছেল মোঃ হাফিজুর রহমান ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোট ছেলে মোঃ হারুনুর রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (সম্মান), এম.এ ও এম.এস.এস ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, গাজীপুরে কর্মরত। ছোট সন্তান ও একমাত্র মেয়ে ছালমা খাতুন ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা থেকে বি.এস.সি(সম্মান) ও এম.এস.সি; ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি.এড এবং এম.এড ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনা প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ইন্সট্রাক্টর (প্রথম শ্রেণি গেজেটেড) পদে কর্মরত। 

রহিমা খাতুনের আপ্রান প্রচেষ্টার কারণেই প্রত্যেক সন্তান আজ স্বস্ব অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ