ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শান্তা খাতুন নামের এক গৃহবধুকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ওই গৃহবধু বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার স্বামী শাহ আলমসহ চারজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে পৌর সদরের চৌবাড়িয়া হারো পাড়া গ্রামের মোঃ শাহ আলমের বাড়িতে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শাহ আলম ওই গ্রামের মোঃ আব্দুস ছাত্তার মোল্লার পুত্র ও অষ্টমনিষা জোকা গ্রামের পয়ান মোল্লার কন্যা শান্তা খাতুন। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত পরিবার বাদী পক্ষকে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের চৌবাড়িয়া হারো পাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুস ছাত্তার মোল্লার পুত্র মোঃ শাহ আলমের সঙ্গে অষ্টমনিষা ইউপির জোকা গ্রামের পয়ান মোল্লার কন্যা শান্তার পারিবারিক ভাবে ৮ বছর আগে তাদের বিয়ের সকল কার্যত্রুম সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা সুখেই তাদের দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিল। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর থেকেই ওই গৃহবধুর স্বামী শাহা আলম ও তার পরিবারের লোকজন মোটা অংকের যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু মোটা অংকের টাকা যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জনালে স্বামী শাহা আলম ও তার পরিবারের লোকজন গৃহবধু শঅন্তা খাতুনের উপর অত্যাচার ও মারপিট করতে থাকে।
সে কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পরও শান্তা খাতুনের বাড়িতে নিয়মিত শাহা আলম এর যাতায়াতের মধ্য দিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এলাকার ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ৮ লক্ষ টাকার দেনমোহর ধার্য করে কাবিন নামা মুলে বিবাহ হয়। কিন্তু বিবাহের পরপরই আবারও শান্তার স্বামী শাহা আলম, শশুর-শাশুড়ী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা যৌতুকের দাবীতে মাঝে মধ্যেই শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে।
স্বামী শাহা আলম গরু ব্যবস্যায়ী হওয়ার কারণে রোজার ঈদ কেন্দ্র করে গরু ক্রয়ের জন্য ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। শান্তা খাতুন ও শান্তার মা বাবা ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহা আলমের পরিবারের সদস্যরা শাহা আলমকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা আদায় করবে মর্মে শান্তাকে জানায়। শান্তা বিবাহের কথা শুনে প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে তার স্বামী শাহা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা লাঠি ও রট দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত যখম করে এবং শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন গৃহবধূ শান্তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই গৃহবধূ শান্তা খাতুন বাদী হয়ে স্বামী শাহা আলম (৩৫), মোছাঃ জোসনা খাতুন (৪০), মোঃ মাসুদ হোসেন (৫০) ও মোছাঃ আসমা (৪৫) কে আসামী করে পাবনা আদালতে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(খ)/১১(গ)৩০ ধারায় মামলা করে। অপরদিকে মামলা চলাকালীন অবস্থায় নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী শাহ আলম আদালতের রায়কে হেয় করে ও আদালত অবমাননা করে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ঈশ্বরদী থানার মাছ গ্রামের বাবুলের মেয়ে অনামিকাকে গত ২৯ এপ্রিল তৃতীয় বিয়ে করেন।
এবিষয়ে পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান আহমদ শান্তাকে মারধরের ঘটনা ও তৃতীয় বিবাহের ঘটনা স্বীকার করেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, এ সংক্রান্ত মামলার কোন কাগজপত্র পাইনি, কাগজপত্র পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই বাদী পক্ষকে বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে শাহা আলমের পরিবার।

0 মন্তব্যসমূহ