সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

আটঘরিয়ায় উপজেলা নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা!

 

ফাইল- ছবি

ফয়সাল মাহমুদ পল্লব: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট উপলক্ষ্যে পাবনার তিন উপজেলা পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদীতে আজ ২৯ মে ইভিএমের মাধ্যম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা। দলীয় প্রতীক না থাকায় এবং বিএনপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। 


নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আটঘরিয়া উপজেলায় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর ভোটযুদ্ধ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। এ উপজেলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ঘিরে ভোটের মাঠে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি দেখে এখানে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সাধারন ভোটাররা।


ভোটররা জানান, পাবনার তিন উপজেলার নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় আলোচনার ঝড় বইছে। দলীয় প্রতীক হিসাবে নৌকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছেন।

পাবনা সদর উপজেলা:

পাবনা সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারোফ হোসেন (ঘোড়া প্রতীক), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান (মোটরসাইকেল প্রতীক), জেলা আওয়ামী লীগের তিন নির্বাহী সদস্য কামিল হোসেন (কাপ-পিরিচ প্রতীক), রফিকুল ইসলাম রুমন (আনারস প্রতীক) ও আবু সাঈদ খান (হেলিকপ্টার প্রতীক)।

ঈশ্বরদী উপজেলা:

ঈশ্বরদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য গালিবুর রহমানের ভগ্নিপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলার সারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমদাদুল হক রানা (আনারস প্রতীক) ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী (ঘোড়া প্রতীক)। 

আটঘরিয়া উপজেলা:

আটঘরিয়া উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম (মোটরসাইকেল প্রতীক) এবারও প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম কামাল (ঘোড়া প্রতীক)।


স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন শুরুর আগে থেকেই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদা বলয় তৈরি করেছিলেন। ভোটের প্রচারণা শুরুর পর বিষয়টি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলাতেই প্রার্থীদের সঙ্গে নেতা-কর্মীরাও ভাগ হয়ে গেছেন। একেকজন একেকজনের সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। এতে ভোটের মাঠও বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।


তবে একই দল থেকে একাধিক প্রার্থী থাকলেও কোথাও বড় ধরনের হানাহানি বা মারামারির ঘটনা ঘটেনি। ১২ মে রাতে আটঘরিয়া উপজেলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ২৩ মে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামিল হোসেনের স্ত্রীর ওপর হামলা এবং ২৪ মে ঈশ্বরদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। সবারই একটা প্রভাব রয়েছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রার্থীদের প্রভাব ততই ফুটে উঠছে।


তবে এ প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে আটঘরিয়া উপজেলায়। এ উপজেলার দেবোত্তর বাজারে গত ১৯ এপিল আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রাঘাতে ৪ জন আহত হয়। গত ১২ মে রাতে আটঘরিয়া উপজেলার মতিগাছা গ্রামের গনির বটতলা নামক স্থানে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে কথা কাটাকাটির জের ধরে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের প্রতি হামলা চালায়। সংঘর্ষ এক সময় সংঘাতে রূপ নেয়। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হয়।    


এ সকল ঘটনার পর থেকে আটঘরিয়ায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে সাধারন ভোটাররা জানান। ভোটের দিন অথবা ভোটের পরে এই চাপা উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। ভোটের দিন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম সময় মনে করে যে কোন পক্ষ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিশোধে নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দেবোত্তর, মতিঝিল, শ্রীকান্তপুর, একদন্ত, শ্রীপুর, লক্ষিপুর, শিবপুর এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলি অধিক ঝুকিপূর্ণ  হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। 


এদিকে নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে পাবনার প্রশাসন তিন উপজেলার প্রার্থীদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে মঙ্গলবার (২৮ মে) নির্বাচনী ব্রিফিং সম্পন্ন করেছেন জেলা পুলিশ। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সকলকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনসহ করণীয় বর্জনীয় সংক্রান্তে বিভিন্ন দিক-নিদের্শনা প্রদান করেন পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুনসী। 


পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্যের পাশাপাশি বিজিবি (২৭ থেকে ৩১ মে) মোতায়েন থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম দায়িত্ব পালন করবে। ইতিমধ্যে সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।



  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ