সর্বশেষ

6/recent/ticker-posts

ভাঙ্গুড়ায় রাতের আঁধারে গুমানি নদীর মাটি বিক্রি করছেন আ’লীগ নেতা

 




ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানি নদী থেকে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। 


চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খোকন তার সহযোগী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ছরিদুল ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমীন এই মাটির বাণিজ্য করছেন বলে জানা গেছে। 


নদীতে বাঁধ দিয়ে মাটি কাটায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে শত বিঘা জমি বোরো চাষাবাদে পানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাশ্ববর্তী নিমাইচড়া ইউনিয়নের বহ্মপুর, বিশ্বনাথপুর ও করোকলার গ্রামবাসীর। 


জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনীষা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অষ্টমনীষা বাজার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উত্তরে গুমানি নদী থেকে প্রতিদিন রাতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। সেই মাটি ট্রাকযোগে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। প্রতি ঘনফুট মাটি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। 


প্রতিদিন রাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার ঘনফুট মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতি রাতে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান খোকন তার সহযোগী ছরিদুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমীন। প্রতিদিন রাতে এই মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চলে।  


স্থানীয়দের দৃষ্টি এড়াতে দিনের বেলায় ভেকু মেশিন ও মাটি পরিবহনের ট্রাক্টর অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়।


সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনীষা বাজার ও চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর বাজারের মাঝখানে অবস্থিত গুমানি নদী। এই নদীর দক্ষিণ পাশে রয়েছে অষ্টমনীষা ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং উত্তরে রয়েছে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিস। 


দুইটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ৫০০ ফুটের মধ্যে নদী থেকে মাটি বিক্রি করলেও নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ দুই ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করেই লাখ লাখ টাকার নদীর মাটির ব্যবসা চলছে। নদীর মাটি কাটার স্থানের একটু উপরেই রয়েছে পাশাপাশি  মির্জাপুর দাখিল মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। 


নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে স্থাপন করা হয়েছে গাইড ওয়াল। অথচ এর নিচেই খনন করা হচ্ছে এই নদী। ফলে গভীর খননের কারণে বন্যা মৌসুমে স্কুলের মাঠ ধসে পড়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।


এদিকে নদীতে মাটি কাটতে বাঁধ দেয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এই নদীর পানিতে আশেপাশের কয়েকটি মাঠের ধানের সেচ প্রকল্পের মেশিন বসানো রয়েছে। বাঁধের কারণে পানি সংকটে মেশিনে পানি পাচ্ছে না। এতে পানির অভাবে নিমাইচড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর, বিশ্বনাথপুর ও করোকলা গ্রামের মাঠে শত বিঘা জমিতে বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। 


সেচ পাম্প মালিক সাইদুল ইসলাম বলেন, নদীর মাটি কাটায় বাঁধ দেয়া হয়েছে। এতে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পাম্পে পানি পাচ্ছে না। এতে বোরো চাষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেও ফল পাওয়া যায় নি।


অভিযোগের বিষয়ে কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘আমি এই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। তবে রাজনৈতিক কারণে দলের ছেলেদের জন্য মাটি কাটার সুপারিশ করি। তাছাড়া নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের গরু বাছুর গোসল করার জন্য নদীর কিছু অংশ কাটা হচ্ছে।’


এবিষয়ে কথা বলতে অষ্টমনীষা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, ম্যানেজ নয়। বিষয়টি লক্ষ্য করা হয়নি। পরে অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।


অষ্টমনীষা ইউনিয়নের পুলিশের বিট অফিসার উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি জানা নাই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ