পাবনার সাঁথিয়ায় পাকা সড়ক পুকুরে ধসে যাচ্ছে। বিধি না মেনে সড়ক ঘেঁষে ব্যক্তিমালিকানায় পুকুর খননের কারণে এ ক্ষতি হচ্ছে। ধসে পড়া সড়ক দিয়েই চলছে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। ফলে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
গত ৬ মার্চ মাধপুর-সাঁথিয়া-বেড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ছোন্দহ এলাকায় একটি বাস আরেকটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। অনেক যাত্রী আহত হন।
বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পুকুর খননের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ি চালানোর সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার মাধপুর থেকে বেড়া (সিঅ্যান্ডবি) পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পাবনা আঞ্চলিক মহাসড়ক ছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ সড়ক ঘেঁষে পুকুর ও সেচনালা করে মাছ চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১৫টি পুকুর খনন করা হলেও বেশির ভাগ জায়গায় পাড় বাঁধা হয়নি। ফলে সড়ক ধসে দু’পাশে জেলা পরিষদের রোপণ করা গাছসহ উপড়ে পড়ছে।
এ কাজে স্থানীয় মতিউর রহমান, জাফর আলী, মোস্তাক আহমেদ, নজরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নিজাম উদ্দিনসহ প্রভাবশালী কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারকির অভাবে এবং পুকুর খননকারী ভূমি মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন এ সংখ্যা বেড়েই চলছে।
সড়ক ঘেঁষে পুকুর ও সেচনালা খননের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো পুকুর খনন ও পুনর্খনন করা যাবে না। এ ছাড়া সরকারি রাস্তার সীমানার কিনারা থেকে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরত্বে এবং ৪৫ ডিগ্রি ঢালে পাড় রেখে পুকুর, জলাশয় খনন করতে হবে। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এরপরও ভূমি মালিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সড়কের পাশে অবাধে পুকুর খনন করে যাচ্ছেন।
পুকুর মালিক মতিউর রহমান বলেন, ‘অনেকেই পুকুর কেটেছে, তাই আমিও কেটেছিলাম। তবে সড়কের যাতে ক্ষতি না হয়, সেভাবেই কেটেছি।’
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, গ্রামীণ সড়ক ঘেঁষে পুকুর ও সেচনালা খনন করায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ বলেন, ভেঙে যাওয়া সড়কে প্রতিরক্ষা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত পুকুর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমিন বলেন, সড়ক আইন মেনে পুকুর খনন করতে হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ